সিবিএ নেতাকে শো-কজ, জঙ্গল সলিমপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের পর আবার বিচ্ছিন্ন

0

ইকবাল মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম) : জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সীতাকুণ্ডের জঙ্গলপুর পাহাড়ের ছিন্নমূলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ১৫ ঘন্টা পর পুনরায় সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ ঘটনায় মহানগর বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ (সিবিএ) প্রভাবশালী নেতা জসিম উদ্দিনকে শো-কজ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সোমবার (২৮ আগস্ট) গভীর রাতে বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগের এক নেতার তত্ত্বাবধানে সীতাকুণ্ড পাহাড়ে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ দেয়া হয়। এসময় তিনি সাবস্টেশন অক্সি-১ দায়িত্বরত এসবিএ কর্মকর্তা মো. মহসীনকে চাপ প্রয়োগ করে আলোচ্য স ালন লাইন শাটডাউন করান। পরে তার অনুগত বিদ্যুৎ শ্রমিক এশিয়ান ওমেন ইউনির্ভাসিটি গেট এলাকা থেকে ৩৩/১১ কেভিএ সংযোগটি পুনঃস্থাপন করে। এতে প্রধান প্রকৌশলী দু’জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বলে জানায় সূত্রটি।

এবিষয়ে বিতরণ অ ল বিবিরহাট আ লিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম মৃধা বলেন-‌’রাতের বিষয়টি অফিস জানে না। সকালে বিষয়টি আমি শুনেছি।’ এ ব্যাপারে সিবিএ নেতা লাইনম্যান জসিমকে শো-কজ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকালে আলোচ্য সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বিদ্যুৎ কর্মীদের ঘেরাও করে ছিন্নমূল এলাকার কিছু লোকজন। পরে পিডিবি’র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে বিতর্কিত সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সোমবার গভীর রাতে সংযোগটি পুনঃস্থাপন করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে প্রায় দুই হাজার একর সরকারি পাহাড় দখল করেছে একটি সংগঠন। প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড় কেটে বিনাশ করে তৈরি করা প্লট ‘গরীব অসহায়’ ও ‘ছিন্নমূল’ নামের আড়ালে বিত্তশালীদের কাছে উচ্চদরে বিক্রয় করছে। ওইসব বসতবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে সংগঠনটি। গত ২০ জুলাই ভয়াবহ পাহড় ধসে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সরেজমিন পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে ওইসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

সিবিএ নেতার সব দায়?
উচ্চ ক্ষমতার (৩৩/১১ কেভিএ) ক্যাবল, খুঁটিসহ যাবতীয় সরঞ্জাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)র। কাজও করছে পিডিবির ঠিকাদারের লোকজন। এরপর বিশাল এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে বিতরণ অ ল বিবিরহাট আ লিক কার্যালয়। ওইসব নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন দুলাল হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন হোসাইন রফিকুন্নবী। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীকে সিলেটে বদলী করা হয়। বর্তমানে তিনি রাঙ্গামাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। আর হোসাইন রফিকুন্নবীকে একই কার্যালয়ের অন্য সাইডে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে একাধিকবার হোসাইন রফিকুন্নবীর বদলীর আদেশ হলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে। একই ছাদের নিচে চাকুরীর প্রায় পুরো সময়। তবে সকল দায় কি সিবিএ নেতার? এমন প্রশ্ন বাতাসে উড়ছে নগর পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ অ ল বিবিরহাট আ লিক কার্যালয়ে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.