সীতাকুন্ডে খাস জায়গা দখলে নিয়ে বনায়নের পরিবর্তে পাহাড় কেটে বসতি নির্মান

0

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানাধীন ৯নং ইউনিয়নের জঙ্গল ভাটিয়ারী মৌজার ৫ নং এলাকায় ১২ একর সরকারি জায়গার উপর বনায়ন করার নামে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অংশিদারদের তোয়াক্কা না করে জোড়পূর্বক ক্ষমতা প্রদর্শন করে পাহাড় ও সমতলে বসতি নির্মান করে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন আতুরার ডিপোর ভুমিদস্যু জাহাঙ্গীর।

সরেজমিনে জানা যায়, পাহাড় সমতলসহ দীর্ঘদিন যাবত সরকারী খাস জায়গাগুলো অনাবাদি ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোন জায়গা অনাবাদি না থাকার ঘোষনা দিলে এলাকার অনাবাদি মোট ১২একর জায়গাগুলোতে বনায়ন বা উন্নয়ন কর্মকান্ড করার উদ্দেশ্যে সমবিনিয়োগে এগ্রো প্রকল্প করার জন্য সেই এলাকার আরো ৩জনকে নিয়ে জাহাঙ্গীর চুক্তিবদ্ধ হন। যাতে উক্ত জায়গার পাহাড়ি এলাকায় অংশিদাররা আম্রপালী, পেয়ারা, লেবু ও সমতল জায়গায় মুরগীর ফার্ম জাতিয় উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড করে দেশ ও নিজেদের উন্নয়নে কাজ করা যায়। পাহাড় ও সমতলে বনায়ন ও উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড করার জন্য চারজনের মাঝে চুক্তিপত্র থাকলেও কিন্তু জাহাঙ্গীর চুক্তিপত্র ভঙ্গ করে তার সহযোগী বেলাল, জসিম, সাহাবুদ্দিনসহ আশপাশ এলাকার কয়েকজন সন্ত্রাসীকে হাত করে তাদের সহযোগীতায় সে বনায়ন না করে সেখানে সরকারী জায়গা বেচাকেনা করে ১৫০ ঘরের বসতি দিয়ে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছে। সে লক্ষ্যে সে ধরাকে সরা জ্ঞান করে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করে এরইমধ্যে ৬ থেকে ৭টি বসত ঘরের নমুনা তৈরী করেছে এবং বসতি নির্মানের জন্য পাহাড় কাটছে। এ নিয়ে চুক্তিপত্রের অংশিদাররা বা পার্শ্ববর্তিরা তাকে সতর্ক করলে সে কারো কথায় আমল না দিয়ে নিজের দাপট দেখিয়ে বলে প্রশাসন আসুক আর ডিসি আসুক সেটা আমি দেখবো। সে অংশিদারদের পরামর্শে বা বাধার কোনরুপ তোয়াক্কা করছেনা বলে জানা যায়। আশপাশ ও ৫নং এলাকায় বসবাসরত তার সহযোগীরা বসতি বসলে বেচাবিক্রিতে লক্ষ টাকা পাবে এই আশায় তারা সন্ত্রাসী মনোভাব দেখিয়ে ভুমিদস্যু জাহাঙ্গীরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়,  ভুমিদস্যু জাহাঙ্গীর পরিবার নিয়ে আতুরার ডিপো এলাকায় থাকে।  ৫নং এলাকায় এসে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে শক্তির মোহরা দিয়ে ভয়হীন সরকারী জায়গায় বসতী নির্মানের ব্যবসায় উঠে পড়ে লেগেছে। এ নিয়ে অংশিদারদের কোনরুপ তোয়াক্কাই সে করছেনা।

আরো জানা যায়, ভুমিদস্যূ জাহাঙ্গীর ভাটিয়ারী লিংকরোড সংলগ্ন মৌষমারা এলাকাও ইউনুছ নামে একজনকে বসিয়ে সরকারে ৫০ একর জায়গা দখলকরে বসতি নির্মান করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ছিন্নমুল, আলী নগরসহ কয়েকটি এলাকায়ও সে এই ব্যবসা করে লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়েছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, চুক্তিপত্র থাকলেও  আমি ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াহিদুল আলমের কয়েকটি বসতির অনুমতি নিয়েছি। গরিব লোকদেরকে থাকার ব্যবস্থা করতে কয়েকটি বসতি দিচ্ছি।

এ নিয়ে ৫নং এলাকার সভাপতি মান্নান বলেন, এ বিষয়ে আমি জানিনা। তবে যদি ঘটনা সত্য হয় স্থানিয় প্রতিনিধিদের জানিয়ে ব্যবস্থা নিবো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াহিদুল আলম বলেন, সে নিজেকে অসহায় পরিচয় দিয়ে তার দখলীয় খাস জায়গায় একটি বসতি নির্মানের জন্য এসেছিল। কিন্তু তার পাহাড় কাটার বিষয়টি জানিনা। যদি পাহাড় কেটে কিছু করতে চায় তাহলে ব্যবস্থা নিবো।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.