হাম। ডাক্তারি ভাষায় মিজেলস বলে। ভাইরাসজনিত রোগ, ছোঁয়াচে। আরএনএ প্যারামিক্সো ভাইরাস (RNA Paramixo Virus) দ্বারা আক্রমণের ফলে এ রোগ হয়। কখনও কখনও জটিলতা সৃষ্টি করে।
শিশু যদি আগ থেকে ভিটামিন এ-এর অভাবে ভোগে তবে হাম হলে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে এ রোগে শিশুমৃত্যু উল্লেখযোগ্য। তিন মাসের কম বয়সী শিশুর হাম সাধারণত দেখা যায় না। হাম ভাইরাস দেহে প্রবেশের এক-দুই সপ্তাহ পর রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। কাশি, চোখ লাল ভাব, জ্বর ও সর্দি হয় সাবুর দানার মতো ‘কপলিকস স্পট’ মুখের ভেতরে দেখা যেতে পারে। শরীরে র্যাশ বেরোয়। এ র্যাশ চার দিন স্থায়ী হয়। র্যাশ মিলিয়ে যাওয়ার পর ত্বকে অনেক দিন ক্ষত চিহ্ন থেকে যায়।
হাম শুধু শিশুদের নয়, বড়দেরও হতে পারে। ইদানীং কলেজ-ভার্সিটির ছাত্রছাত্রী এবং বড়দেরও হাম হতে দেখা যাচ্ছে। জেনে রাখা ভালো বড়দের হাম হলে শরীরে জটিলতা বেশি হয়। বড়দের হামের কারণে যেসব জটিলতা হতে পারে তা হচ্ছে- মারাত্মক নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ ইত্যাদি।
এছাড়া অনেক সময় মস্তিষ্কের প্রদাহ হতে পারে। কোনো বিশেষ এলাকায় ‘হাম প্রাদুর্ভাব’ হয়ে দেখা দিতে পারে।
নিচের যে কোনো তিনটি উপসর্গ বা চিহ্ন শিশু দেহে পাওয়া গেলে বুঝতে হবে শিশু জটিল ধরনের হামে আক্রান্ত।
* শিশু বুকের দুধ পান করতে বা পানি পান করতে অসমর্থ হলে।
* যা খাচ্ছে সবই বমি করে দিচ্ছে।
* খিঁচুনি।
* অজ্ঞান হয়ে পড়া।
* চোখের মণিতে ঘোলাটে ভাব।
* নিউমোনিয়া।
* পাতলা পায়খানা ও পানিশূন্যতা।
* শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ শুনতে পাওয়া।
হাম আক্রান্ত হলে সতর্ক থাকতে হয়। সতর্কতা অবলম্বন না করলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, এমনকি শিশু মারাও যেতে পারে।
হামের কারণে সাধারণত যে জটিলতাগুলো দেখা দেয় সেসব হলো- মস্তিষ্কের প্রদাহ, মুখের প্রদাহ, অন্ত্রের প্রদাহ, পেটের অসুখ, নিউমোনিয়া, শ্বাসনালির প্রদাহ, চোখের কর্নিয়ার প্রদাহ, কর্নিয়াতে আলসার বা ঘা হওয়া, কানের প্রদাহ, পুষ্টিহীনতা, শরীরের ওজন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া ইত্যাদি।
গর্ভাবস্থায় মায়েদের হাম হলে গর্ভপাত ও অকাল প্রসব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হামে আক্রান্ত রোগীকে অন্যদের কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে হবে, জ্বর না কমা পর্যন্ত রোগীকে বিছানায় পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর কমানোর প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে এন্টিবায়োটিক দিতে হবে। এ সময় প্রচুর তরল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।