খুলনার পর বহুল আলোচিত গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। নৌকা প্রতীকের জাহাঙ্গীর বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের হাসান উদ্দিন সরকারকে হারিয়েছেন।
ফলাফলে দেখা যায়, মোট কেন্দ্র ছিল ৪২৫টি। ৯টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল। আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে পেয়েছেন ৪ লাখ ১০ ভোট। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। ভোটের হিসাবে জাহাঙ্গীর বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে দুই লাখ ৩৭৯ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, গাজীপুরে অভিনব কৌশলে ভোট ডাকাতির মহোৎসব হয়েছে। চারশ কেন্দ্রেই অনিয়ম হয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটা বিএনপির পুরনো অভ্যাস। তাদের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ নেই। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ৯ কেন্দ্রে ভোট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৭৩৬ জন হলে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। এ নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী হলেও মূল লড়াই হয়েছে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকে।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাজীপুরকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, আমি শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কথা মাথায় রেখে এ নগরীকে গড়ে তুলব। আশা করি, গাজীপুরসহ দেশবাসী আমাকে সহযোগিতা করবেন। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টায় বিজয়ের প্রাক্কালে প্রতিক্রিয়ায় গাজীপুরের নিজ বাসায় তিনি গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
এদিকে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাজীপুরবাসী বিশ্বাস করে আমাকে ও নৌকা প্রতীকে রায় দিয়েছে। আমি তাদের বিশ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করব। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।’
আয়তনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন গাজীপুর। এ সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৩২৯ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার। এতে ২৫ লাখের বেশি জনসংখ্যার বসবাস। সর্বশেষ গাজীপুর সিটিতে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে হারিয়ে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান ১ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হন।
৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণার ৮৬ দিন পর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হল। ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও ৩৬ দিন নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার পর আইনি জটিলতায় মাঝপথে আটকে যায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। পরে আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হল।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গাজীপুর সিটির উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রচার চালিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তার বিভিন্ন পথসভায় নগরীর দুঃখ-দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে এর সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। তারা মনে করেন, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এখন তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা। এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের পালা।