Wednesday, September 2

বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে ৭৭ শতাংশ

0

কয়েকদিন ধরে ঠাণ্ডায় আক্রান্ত ৮ মাস বয়সী হাসাবুল্লাহ। ধীরে ধীরে তার এই সমস্যা নিউমোনিয়ায় রূপ নেয়। কিন্তু তার মা মুক্তা জানে না এই মুহূর্তে তিনি করবেন। মুক্তার পরিবার অনেক গরীব। সন্তানকে বড় ডাক্তারের কাছে নেয়ার সক্ষমতা তার নেই। এমনকি টাকা থাকলেও তার বাড়ির আশপাশে হাসপাতাল ছিল না। ছিল না কোনো স্বীকৃত ডাক্তার।
মুক্তা বলছিলেন, ওই মুহূর্তে আমার কান্না করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
বাংলাদেশে এখন এই নিউমোনিয়ার অল্প দামে এন্টিবায়োটিক পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরও এখনও প্রতিদিন নিউমোনিয়ায় ৩৭ শিশু মারা যাচ্ছে। ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর এটা একটা অন্যতম বড় কারণ। কিন্তু বাংলাদেশ এই নিউমোনিয়া ও শিশুর মৃত্যুর অন্যান্য মরণঘাতি ব্যাধির বিরুদ্ধে সফলভাবে যুদ্ধ করে চলেছে।
হাসাবুল্লাহ মা প্রতিবেশির কাছে শুনেছেন তাদের গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিকে নিউমোনিয়া বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন প্যারামেডিক আছেন। এরপর তিনি তার সন্তানকে সেখানে নিয়ে গেলেন। ওই ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা পেয়ে হাসাবুল্লাহ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলেন।
বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুশ্রমিকের হার কমানোর ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে বাংলাদেশ।
সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী শিশু শিক্ষার হার বৃদ্ধির ফলে শিশু স্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শিশুর মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রেও দারুণ অর্জন বাংলাদেশের।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার কমেছে ৭৭ শতাংশ।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুর মৃত্যুহার কমানোর যে বৈশ্বিক লক্ষ্য (প্রতি ১০০০ শিশুর মধ্যে ২৫ বা তার চেয়ে কম) নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি ২০৩০ সালের আগেই অর্জন করবে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের অন্তত ২৮ কোটি শিশু আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। তবে প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়, এখনও নিরাপদ ও সুস্থ শৈশবের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ শিশু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ১৭৬টি দেশের মধ্যে শিশুদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের সূচকে শীর্ষে আছে সিঙ্গাপুর। এরপর ক্রমান্বয়ে আছে সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও বেলজিয়াম। আর তালিকার একেবারে তলানির দেশগুলো হলো (নিচ থেকে ওপরে)—সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নাইজার, শাদ, মালি ও দক্ষিণ সুদান। সূচকে উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। গত বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩০তম। এ বছর সেটি ১২৭।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.