Monday, August 24

গোপালগঞ্জের বশেমুরবিপ্রবির হলের সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস বশেমুরবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের

0

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) বিজয় দিবস হলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা জানতে এবং সে সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মত একটি মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থী, হল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিজয় দিবস হলে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। হলের প্রভোস্ট মো: শফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা কাজী মসিউর রহমান, স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট মো: সিরাজুল ইসলামসহ বিজয় দিবস হল কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের হলের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্ন মানের, শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের অনেকে গণরুমে থাকে, আবার প্রথম বর্ষের অনেকে সুপারিশের ভিত্তিতে রুমে থাকছে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে তাদের হলে রয়েছে খুবই ছোট একটি রিডিং রুম, নেই গেমরুম এবং রয়েছে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করে না বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রদের বক্তব্য শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান জানান, এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ র‌্যাগিং মুক্ত ও মাদক মুক্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অনিয়ম দুর্নীতির স্থান হবে না।
ছাত্র উপদেষ্টা কাজী মসিউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করে পরিপূর্ণ রুপে প্রস্ফুটিত হতে দেয়া আর এ ক্ষেত্রে হলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি আশা ব্যক্ত করেন হলের সকল সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে।
শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়ে বিজয় দিবস হলের প্রভোস্ট মো: শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি দ্রুতই হলে শিক্ষা ও বসবাসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বেআইনি ভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং সিনিয়রিটি ও মেধার ভিত্তিতে হলে সিট বরাদ্দ দিবেন।
খাদ্য সমস্যার বিষয়ে তিনি জানান, তিনি তার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন দ্রæত সময়ের মধ্যে খাদ্য বিষয়ক সমস্যা সমাধানের। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ভাবে খাদ্য সরবরাহের জন্য প্রতিবেলায় দুঘন্টা সময় নির্ধারণ করেন। এছাড়া হলের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি কর্মচারীদের সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এবং শিক্ষার্থীদেরকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান। সেই সাথে তিনি নিজের রুম নিজে পরিস্কার করার মাধ্যমে শুরু করা পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, বাগান পরিস্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপের অনেক অগ্রগতির কথা জানান।
সদ্য দায়িত্ব নেয়া এ প্রভোস্ট আরো জানান, শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে যে কোন কারণে পুলিশ প্রবেশ হল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ব্যর্থতা প্রকাশ করে এবং তিনি যত দিন দায়িত্বে থাকবেন এমন কোনো ঘটনা ঘটতে দিবেন না যাতে হলে পুলিশ প্রবেশ করাতে হয়।
এদিকে হল কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগে খুশি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত এমন উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারে তেমনি শিক্ষার্থী ও হল কর্তৃপক্ষের মাঝেও একটি সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর বিজয় দিবস হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: শফিকুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তিনি হলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হন এবং তারই ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচি আয়োজন করেন। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের আগামীদিনের চাহিদা ও বিদ্যমান সমস্যা গুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহাবস্থান, ভিন্ন মতকে গ্রহণ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়টিকে হলের একটি স্বাভাবিক আচারে পরিনত করতে চান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.