Saturday, August 22

তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

0

তিন জেলায় বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফে দুইজন, জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে একজন ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একজন রয়েছেন। শুক্রবার ভোরে বন্দুকযুদ্ধের এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ইয়াবা কারবারি, সন্ত্রাসী ও ডাকাত রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

কক্সবাজার ও টেকনাফ: টেকনাফে বিজিবির সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইয়াবা কারবারি দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এসময় বিজিবির তিন সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল হতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি অস্ত্র ও ২ রাউন্ড গুলি এবং ২টি লম্বা দা উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতের দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং লম্বাবিল নাফনদী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের ব্লক-এ/৩ এর সোলতান আহমেদের ছেলে আবুল হাসিম (২৫), একই রোহিঙ্গা বস্তির ব্লক-সি/১ এর আবু ছিদ্দিকের ছেলে নূর কামাল (১৯)।

টেকনাফ-২ ব্যাটলিয়ন বিজিবি কমান্ডার লে. কর্নেল ফয়সাল হাসান খান বলেন, হোয়াইক্যং বিওপির সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নাফনদীর কিনারায় টহল দিচ্ছিল। এসময় হস্ত চালিত একটি নৌকায় করে কিছু লোক বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। বিজিবি সদস্যরা উতপেতে থাকে। দুজন লোক কূলে নামা মাত্র বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দৌড় দেয়। নৌকায় থাকা অন্যরা নিরাপদ আশ্রয় নেয়। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা এ সময় বিজিবি সদস্যদের উপর গুলি বর্ষণ করে। তাদের দেখাদেখি নৌকায় থাকারাও গুলি চালায়। বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।উভয় পক্ষের এই গোলাগুলির ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে এলে ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদেরকে টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পকেটে থাকা পরিচয় পত্রে তারা রোহিঙ্গা বলে সনাক্ত হয়। এ ঘটনায় বিজিবির তিন সদস্যও আহত হন। তারা টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছে।

বিজিবি কমান্ডার আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় তৈরী ১টি এলজি, ২ রাউন্ড তাজা গুলি, ২টি রাম দা ও ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভারাহুত (ভুতগাড়ী) গ্রামে সন্ত্রাসী-পুলিশ বন্দুকযুদ্ধে আমিনুর ইসলাম ক্যাসেট (৪০) নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। সে পিয়ারা গ্রামের মৃত আবুল খন্দকার ওরফে শাহাবুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে ভারাহুত গ্রামে অপহরণ ঘটানোর সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে ক্যাসেট আমিনুর ঘটনাস্থলে মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, ১টি চাপাতি ও ৭৮ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে।

পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইসহ প্রায় এক ডজন মামলার পলাতক আসামি ছিল ক্যাসেট আমিনুর। তাদের হামলায় ৩পুলিশ আহত হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আব্দুল মোতালেব (৪২) নামের পাঁচ ডাকাতি মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোর রাতে গফরগাঁও-রসুলপুর আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোতালেব গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুরের ছয়ানী গ্রামের কেতু শেখ ওরফে আব্দুল গফুরের ছেলে।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ জানান, রাতে গফরগাঁও-রসুলপুর আঞ্চলিক সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে ডাকাতদল- গোপনসূত্রে এমন খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের দুটি দল অভিযান চালায় সেখানে। ডাকাতদল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। সহযোগী ডাকাতদল পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোতালেব নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। আহত মোতালেবকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মোতালেবের বিরুদ্ধে পাঁচটি ডাকাতির মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আকরাম হোসেন নামে পুলিশের এক এসআই আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, ১০ রাউন্ড গুলি ও বেশকিছু কার্তুজের খোঁসা উদ্ধার করা হয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.