জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (১১) টেকসই নগর ও জনবসতি বাস্তবায়নের অভিযাত্রায় গতকাল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কনফারেন্স হলে এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম’র উদ্যোগে সেমিনার সংগঠনের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ব্রাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়–য়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সামসুদ্দোহা, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ.কে.এম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক সৈয়দ মো: তানভির, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বোর্ড মেম্বার ও চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, ব্রাক জেলা সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোসলেম উদ্দিন মুন্না, চট্টগ্রামের এডিসি ট্রাফিক (উত্তর) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, পরিবেশবিদ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, মেয়র মহোদয়ের একান্ত সচিব সৈয়দ আবুল হাসেম, বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর ১৫ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক এ.এস.এম আজিম উদ্দিন, ক্যাব চট্টগ্রাম’র সভাপতি এস.এম নাজের হোসেন, ব্রাক’র আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কর্মকর্তা মো: মাসুম বিল্লাল, চট্টগ্রাম’র ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ আসিফ খান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ যথাক্রমে আবিদা আজাদ, ফারজানা পারভিন, মনোয়ারা বেগম মনি, চট্টগ্রাম ওয়াসা’র কর্মকর্তা মো: মাহবুবুল আলম, শিক্ষাবিদ শামসুদ্দিন শিশির, মাতৃভূমি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পী, নগর ও নাগরিক’র সভাপতি লায়ন এম. আয়ুব, তরুণ উদ্যোক্তা লায়ন এম.এ হোসেন বাদল, লায়ন এম.এ নেওয়াজ, ইউনিসেফ চট্টগ্রামের প্রতিনিধি গাজীউল হাসান মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন ও বস্তি কর্মকর্তা মাঈনুল হোসেন চৌধুরী জয়, ভয়েস অফ চিটাগং’র প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল সিদ্দিকী, ইপসা’র কর্মকর্তা ফারহানা ইদ্রিস, ওব্যাট হেল্পার্স’র কান্ট্রি ম্যানেজার সোহেল আক্তার খান, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, ছাত্রনেতা বোরহান উদ্দিন গিফারী, মিল্টন দাশ বিজয়, নেছার আহমেদ খান, ব্রাক ইউডিপি প্রতিনিধি সুব্রত টুডু, চট্টগ্রাম মহিলা পলিটেকনিকেল’র প্রিন্সিপাল আশরিফা তানজিম, জি.এম তাওসিফসহ নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহের কর্মকর্তা, নগর পরিকল্পনাবিদ, ব্যবসায়ী, সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, পরিবেশ-নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকবৃন্দ।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেন, টেকসই চট্টগ্রাম নগর গড়তে গণসচেতনতা প্রসার ও সম্মিলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই। সদিচ্ছা থাকা স্বত্তে¡ও আইনগত ও অসহযোগী মনোভাবের কারণে সবসময় কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্পাদন সম্ভব হয় না। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নে টেকসই নগর বিনির্মাণ করতে সিটি কর্পোরেশনসহ নগর সেবায় নিয়োজিত সংস্থাসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ন। উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে সমন্বয় নিশ্চিতকরণে সিটি গভর্মেন্ট হোক অথবা অন্য কোন ধারনায় ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলেই পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব। চট্টগ্রাম নগরীতে ৭০ লক্ষ জনগণের ধারণ ক্ষমতার সক্ষমতা তৈরি করা সহজতর নয়। বরং বাস্তবতার নিরিখে কি করা যায় তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়নে নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, সিভিল সোসাইটিকে এগিয়ে আসতে হবে। নগরীকে বাসযোগ্য রাখতে গণপরিসর, উন্মুক্ত স্থান, জলাশয়, নদী, খাল সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যতা অক্ষুন্ন রেখে উন্নয়ন কর্মকান্ড নিশ্চিতে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
মূল প্রবন্ধে প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়–য়া বলেন, টেকসই নগর গড়তে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা দরকার। প্রকল্প গ্রহণ ও বিনিয়োগের আগেই সর্বপ্রথম ঠিক করতে হবে কোন বিনিয়োগে বিপুল জনগোষ্ঠীর সমস্যার সমাধান হবে। যেমন- নগরের যানজট কমানোর জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণ করার চেয়েও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করলে অত্যধিক কার্যকর হবে। অবকাঠামো নির্মাণ প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ না করে সমপরিমাণ বিনিয়োগ করে সকল পর্যায়ের মানুষের জন্য সুলভ-ন্যায্য ও সবার প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করে বহু সমস্যার সমাধান করা যেতো। প্রাইভেট কার ও ট্যাক্সি ব্যবহারের সামর্থ্য সকলের নেই। বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উড়াল সড়ক ব্যবহার করতে পারছে না। সকলের জন্য উপযোগী রাস্তা-ঘাট সংস্কার, বস্তিবাসীর আবাসন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ন অনেক প্রকল্প চট্টগ্রামকেন্দ্রীক হওয়ায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়ছে। নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বয় দরকার। অপরিকল্পিত নগরায়নে চট্টগ্রাম ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সচেতনতা ও দেশপ্রেমের প্রত্যয় জাগ্রত করতে পাঠ্যসূচিতে এসকল বিষয়াদি অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। শহরে দারিদ্র বাড়ছে। গাছ লাগানো, বনায়ন, উন্মুক্ত পরিসর সৃষ্টি ও চট্টগ্রামের দীঘিগুলো রক্ষায় স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নগরে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বেষ্টিত একটি নগর। গ্রীণ ও বøু সিটিতে রূপান্তর করতে হবে চট্টগ্রামকে। আধুনিক সৌন্দর্যবর্ধন প্রক্রিয়ার নীতিতে ফুটপাত ও পথচারীদের হাঁটার পরিচ্ছন্ন আবহ দরকার। পূর্নাঙ্গ আধুনিক ওয়ার্ড কমপ্লেক্সের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিতের আহŸান জানান নাগরিকবৃন্দ।