আন্জুমানে রজভীয়া নুরীয়া বাংলাদেশ এর আয়োজনে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে ২৯ ফেব্রæয়ারি শনিবার বিকালে তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে বক্তারা ভারতে মুসলমানদের ওপর দমন-নিপীড়ন ও হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত সরকারকে মুসলিম নিপীড়ন থামানোর দাবি জানান।
বক্তারা আরো বলেন, কুরআন মজিদের দুটি দিক রয়েছে। বাহ্যিক এবং ভেতরগত নিগূঢ় দর্শন। ভেতরগত দর্শন না বুঝে কেবল রূপক অর্থ বোঝার চেষ্টায় গোমরাহি তথা পথভ্রষ্ট হবার সম্ভাবনা রয়েছে। কুরআন-সুন্নাহর যথার্থ চর্চা না হয়ে ভুল চর্চা ও অপব্যাখ্যা হবার ফলে উগ্রপন্থি জঙ্গিবাদি বিভীষিকা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কুরআন-সুন্নাহর কল্যাণমুখী দর্শন সঠিকভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরে জঙ্গিবাদি ত্রাস থেকে রেহাই পেতে হবে। মানবিক উদারবাদী গণকল্যাণমুখী ইসলামের দর্শন ব্যাপকভাবে প্রচারের মাধ্যমে সমস্ত বাতিল অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে।
আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান পীরে তরিক্বত আল্লামা আবুল কাশেম নূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী।
প্রধান অতিথি ছিলেন তরিকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি বলেন, কুরআন ইসলামের নামে বাতিল ফের্কাগুলোর দৌরাত্ম্য চলছে। হেফাজতি, ওহাবি ও মওদুদীবাদীদের দৌরাত্ম্য ও আস্ফালন থামাতে হকপন্থী দেশপ্রেমিক সুন্নি মতাদর্শী তরিকতপন্থী মানুষের জাগরণ আজ অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভেদ অনৈক্য ভুলে তরিকতপন্থী সুন্নি জনতার ঐক্যের ডাক দেন সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি। ভারতে মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন সহ মাজার মসজিদ পুড়ানো বন্ধ সহ মুসলমানদের জান মালের নিরাপত্তা জন্য জাতিসংঘ ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার প্রতি উদাত্ত আহŸান জানান তিনি।
মুহাম্মদ মিঞা জুনাইদ এবং মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরীর যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আলহাজ¦ মুহাম্মদ নুরুল হক। মাহফিলে কুরআন মজিদের বিভিন্ন আয়াত উদ্বৃত করে তফসির পেশ করেন মুফাস্সির আল্লামা ইউনুচ রজভী, আল্লামা মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রিজভি। অতিথি ও আলোচক ছিলেন ড. মাসুম চেীধুরী, অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ দৌলতী, আল্লামা ওসমান গনি জালালী, মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান রুবায়েত, মুহাম্মদ সাইফুল করিম চৌধুরী, মুহাম্মদ আবুল বশর, মুহাম্মদ জাহেদুল আলম, আলহাজ¦ জহির আহমদ সওদাগর, আলহাজ¦ মুসা সওদাগর, মুহাম্মদ আবুল হাসান, আবু ছালেহ আঙ্গুর, মুহাম্মদ তারেক আজিজ, মুহাম্মদ ফরিদুল আলম, মাওলানা ইয়াকুল আলী ফারুকী, মাওলানা আবু তৈয়ব মুহাম্মদ মুজিবুল হক, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল কাদের রজভী, মুহাম্মদ জাকারিয়া, এস.এম ইকবাল বাহার চৌধুরী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন জালালী, শায়ের এনামুল হক এনাম, মাওলানা আবুন নূর মুহাম্মদ হাস্সান নূরী, মাওলানা ছালেকুল মাওলা, মাওলানা আবু ইউসুফ নূর, মাওলানা নাজিম উদ্দিন কাদেরী, মাওলানা ছালামত রেযা, মুহাম্মদ আরাফাত নূরী, মুহাম্মদ এহসানুল করিম, মিনহাজ উদ্দীন সিদ্দিকী, মুহাম্মদ বাপ্পী, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, মুহাম্মদ জাহেদ, মুহাম্মদ মিনহাজ, মুহাম্মদ শিহাবসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। সালাত সালাম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ,বিশে^র নিপীড়িত মানবতার পরিত্রান এবং দেশ ও বিশ^বাসীর ওপর আল্লাহর রহমত কামনায় মুনাজাত করা হয়। সালাত সালাম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, বিশ্বের নিপীড়িত মানবতার পরিত্রাণ এবং দেশ ও বিশ্ববাসীর ওপর আল্লাহর রহমত কামনায় মুনাজাত করা হয়।