Monday, August 24

করোনা প্রতিরোধে ও দুর্যোগে বেনাপোল কাস্টমের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর কার্যক্রম প্রশংসনীয়

0

মোঃ আইয়ুব হোসেন পক্ষী, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস নামের সংক্রামক ব্যাধিকে প্রতিরোধে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর সকল কার্যক্রম আজ প্রশংসনীয় ও ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে।

আজ সারা দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত তখন দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে এখন পর্যন্ত নেই এর ছোঁয়া। বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দিনে দশ হাজার মানুষের গমনাগমন করে থাকে। এদের কারোর মাধ্যমে ভাইরাস বেনাপোলে ছড়িয়ে যাবে এমনটি আশা করেছিলো বেনাপোলবাসী।

বেনাপোলে করােনা ভাইরাস প্রতিরােধে সচেতনতামূলক সেমিনার যখন চীনে এই ভাইরাস শুরু হয় তখন থেকে বেনাপোল বাসীকে সতর্কতা করে আসছেন বেলাল চৌধুরী। জানুয়ারী মাসের ২৯ তারিখে বেনাপোলের কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তা,আইনশৃংখলা রক্ষাকারীবাহিনী ও বেনাপোলের সাধারন জনগনদের সাথে নিয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সেমিনার করেন তিনি।

সেখান থেকে শুরু করে আজ পযর্ন্ত তিনি এই করোনা প্রতিরোধে সচেতন করে যাচ্ছেন বেনাপোল বাসীকে। যার সাফল্য আজ পাচ্ছে বেনাপোলের সাধারণ মানুষ।

বেনাপোল চেকপোস্টে যাত্রীদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, টিস্যু-বক্স বিতরণ দিয়ে শুরু করেন করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে লিখিতভাবে পুশব্যাক করা করোনা রোগী বেনাপোল কাস্টম হাউস সতর্ক পদক্ষেপ নেয়। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক TV3_UK এর সাক্ষাতকারে করোনা নিবারণে ২০ ফেব্রুয়ারি কাস্টম হাউস বেনাপোলের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

করোনা দুর্যোগে বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীর নেয়া কার্যক্রমগুলো :

জানুয়ারি:
২৯ : ২০০ অংশীজন নিয়ে কাস্টমস ক্লাবে সচেতনতা সভা; প্রস্তুতি তিন দিন আগে শুরু।
৩০ : কাস্টম হাউসে মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লভস বিতরণ।
৩০ : বিভিন্ন গণমাধ্যমে করণীয় ও সেমিনার খবর প্রচার।
৩১ : অভ্যন্তরীণ সচেতনতা ও প্রায়োগিক কার্যক্রম।
৩১ : পরিচ্ছনতা ও নিবারক সামগ্রি সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত।

ফেব্রুয়ারি
২০ : বেনাপোল রেলস্টেশনে ভারত ফেরত করোনা সন্দেহ যাত্রী নিয়ে সতকর্তা কার্যক্রম
২২ : করোনার ভয়াবহতা নিয়ে সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা
২১ : বেনাপোল কাস্টম হাউস ও কমিশনারের ফেসবুক পেইজে লাগাতার প্রচারণা
২৫ : ভাইভার গ্রুপে ২০০+ কর্মকর্তা কর্মচারিকে সচেতনতায় উদ্বুদ্ধকরণ

মার্চ
১ : হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লোবাল ও মাস্ক সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান
১০ : চেকপোস্টে যাত্রীদের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, টিস্যু-বক্স বিতরণ
১০ : চেকপোস্টে কাস্টমস, বন্দর, পুলিশ, কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিতরণ
১০ : কাস্টম হাউসের মূল গেইটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাকরণ
১০ : কাস্টম হাউসের ভেতরে প্রবেশকারী প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা
১১ : সচেতনতার জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার
১১ : করোনা সচেতনতায় দৃশ্যমান স্থানে পোস্টার লিফলেট স্থাপন
১৯ : সীমান্তে কার্গো শাখায় পানির লাইনসহ বেসিন স্থাপন
১৯ : সীমান্ত ড্রাইভার ও স্টাফদের হাত ধোয়া বাধ্যতামূলেককরণ
২০ : কাস্টম হাউসের এন্ট্রি শাখায় সিএন্ডএফ কর্মচারীদের জন্য কল ও বেসিন স্থাপন
২২ : কাস্টমস মূলগেট, শুল্কায়ন গ্রুপ ও কিপয়েন্টে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সংরক্ষণ
২২ : করোনা সচেতনতায় কমিশনারের উদ্যোগে বেনাপোলে বিভিন্ন স্থানে মাইকিং
২২ : বিশেষ উদ্যোগে পৌরমেয়রের সহায়তায় কাস্টম হাউস চত্ত্বরে করোনা জীবানুনাশর ওষুধ স্প্রেকরণ
২৩ : মসজিদে কমিশনারের বিশেষ সচেতনতা বক্তব্য, আলোচনা ও দোয়া
২৪ : কমিশনারের উদ্যোগে এ দুর্যোগে দু:স্থ ও গরীব কর্মচারীদের জন্য তহবিল গঠন
২৪ : চেকপোস্টে প্রবেশেচ্ছু ভারতীয় ছাত্রদের খাবার বিতরণ
২৪ মার্চ: সিএন্ডএফ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ভারতীয় ছাত্রদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ
২৫ : ফুট, হ্যং ও লং ব্যানার দিয়ে প্রচারণা
২৬. কাস্টম হাউ ও কমিশনারের ফেসবুক পেইজ অব্যাহত সচেতনতা কার্যক্রম
২৮. দুস্থ সিপাই, মালি, বাবুর্চি, বলবয়, সেবক, সহায়কদের নগদ সহায়তা
২৯. গ্রামে দৈনিক আয় নির্ভর ৬২টি পরিবারের মধ্য নগদ অর্থ বিতরণ
৩০. চেকপোস্ট ও কার্গোতে সরাসরি স্পর্শে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের জন্য পিপিই সংগ্রহ

এপ্রিল:
১. সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে বেনাপোল বন্দরের দৈনিক আয়নির্ভর ও কর্মহীন ১৫০ পরিবারে ‘ফুড ব্যাগ’ বিতরণ
৩. অসুস্থ ও রোগীর হাসপাতাল বিল সহায়তা
৪. বেনাপোল সংবাদকর্মীদের ত্রাণে সহায়তা
৮. বিশেষ জরীপের মাধ্যমে বাছাইকৃত ১৭০টি প্রকৃত দুস্থ পরিবারের বাড়িতে ‘ফুড ব্যাগ, পৌছে দেয়া
১৩. কাস্টম হাউসের ফটকে সবার জন্য ইনফ্রারেড থার্মোমিটার বাধ্যতামূলক ও বহিরাগত প্রবেশ সীমিতকরণে রেজিষ্টার চালু
১৪. মূল ফটকে ব্লিচিং পাউডার মেশানো পানির ট্রেতে জুতার তলা ভিজিয়ে ভেতরে প্রবেশ।

করোনা ভাইরাস এর প্রতিরোধের কার্যক্রমের বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন ৭০-৮০ হাজার বেনাপোল বাসীর অধিকতর নিরাপত্তায়। সাবধানতার জন্য আমরা কাস্টমস ক্লাবে সর্ব প্রথম করোনা-সতর্কতা সেমিনার করি। বিভিন্ন সংস্থার ২০০ ব্যক্তিবর্গ প্রাথমিক জ্ঞাণ ও প্রশিক্ষণ দিই। সহকর্মীসহ আমরা দুদেশের হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ছিলাম। দীর্ঘ প্রায় দু’মাস। ঝুঁকি ছিল। আতংক ছিল! ছিল দায়িত্ব পালন। সাথে সীমিত প্রশিক্ষণ। যুদ্ধের সম্বল বলতে ওইটুকুই! কাস্টম হাউস যাত্রীদের ব্যাপারে নিশ্চিদ্র সতর্কতা বজায় রেখে ছিল। ভালো কিছু হলে সবার। বেনাপোলবাসীর! ব্যর্থতা আমাদের। কেউ ধরিয়ে দিলে শুধরে নেব। দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে দ্বেষ খেদ উপেক্ষা করে এগিয়ে যাব।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.