Monday, August 17

লালমনিরহাটে যুবককে নিযার্তনের ঘটনায় মামলা : চেয়ারম্যানকে রক্ষায় এজাহার পরিবর্তন

0

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের জাওরানী গ্রামে বাজার থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে যুবককে নিযার্তনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার সকালে নিযাতিত যুবকের চাচা অাবুল কাশেম বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে প্রথমে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনকে অাসামী করা হলেও পরে সমঝোতায় তাকে বাদ দিয়ে তার ভাই, ছেলে ও গ্রাম পুলিশকে অাসামী করা হয়েছে। এক দিকে চেয়ারম্যানের বাড়ির রুম থেকে ২৭০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার হলেও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। জিডি করে তদন্তের কথা বলছে পুলিশ।

জানা গেছে, জাওরানী এলাকার নবী হোসেনের পুত্রনুরুজ্জামান ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করেন এমনঅভিযোগ তুলেন চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীরহোসেন। শনিবার দুপুরে চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাই মনজুর ও গ্রাম পুলিশ শামীম জাওরানীবাজার থেকে নুরুজ্জামানকে তুলে চেয়ারম্যানের বাড়িনিয়ে যায়। তাকে একটি রুমে আটকিয়ে রেখে হাত-পা বেঁধে নিযার্তন করেন তারা । তাকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে তার কাছে ২৭০ পিচ ইয়াবা পাওয়া গেছে এমন নাটক তৈরী করে পুলিশ ও বিজিবি খবর দেয়চেয়ারম্যান মহির হোসেন ।

তার আগেই স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশ ও বিজিবি’কে অবগত করেন। খবর পেয়ে হাতীবান্ধা পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় লোকজন চেয়ারম্যানের পুরো সাজানো নাটকের ঘটনা বলেন। তারা চেয়ারম্যানের এ সাজানো নাটকের প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশ ও বিজিবি ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান এবং চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ২৭০ পিচ ইয়াবাউদ্ধার করেন। ওই যুবকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে।

একটি সুত্র জানান, রাতে এ ঘটনায় নিযার্তিত যুবকের জ্যাঠা অাবুল কাশেম বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে প্রথমে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনকে অাসামী করা হয়। পরে সমঝোতায় চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে তার ভাই, ছেলে ও গ্রাম পুলিশকে আসামী করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৭০ পিচ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। শুধু জিডি করে তদন্ত করা হবে এমন দাবী পুলিশের।

দ: জাওরানী আবুল লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি দুলাল হোসেন বলেন, ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিপক্ষে কেউ গেলে তাকে বিভিন্ন কৌশলে আটক করে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়। তার ভাইয়ের মাদক পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার অপরাধে ওই যুবককে চেয়ারম্যানের নিদেশে তুলে নিয়ে গিয়ে নিযার্তন করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই যুবক নুরুজ্জামান বলেন, আমাকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেন চেয়ারম্যানের লোকজন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন বলেন, গ্রাম পুলিশ ইয়াবাসহ ওই যুবককে আটক করেছে। তাকে নির্যাতন করা হয়নি।

হাতীবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.