Saturday, August 15

করোনার ভয়কে জয় : একাই ২০৭ জনের নমুনা নিলেন কাপ্তাই স্বাস্হ্য বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ( ল্যাব) অমর চন্দ্র দাশ

0

কাপ্তাই প্রতিনিধি : রাংগামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার সরকারি স্বাস্হ্য বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট( ল্যাবরেটরি) অমর চন্দ্র দাশ। করোনা যুদ্ধের একজন ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা তিনি। নিজেই যে কোন সময় করোনা আক্রান্ত হতে পারে জেনেই জীবনকে উৎসর্গ করেছেন তিনি করোনা যুদ্ধে।

ইতিমধ্যে তিনি একাই সংগ্রহ করেছেন ২০৭ জনের নমুনা। শুধুমাত্র হাসপাতাল নয়, কাপ্তাই নৌ বাহিনী শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটি, রাইখালীর পূর্ব কোদালা সহ অনেক জায়গায় নিজে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তিনি। উপজেলা হাসপাতাল সুত্রে জানা যায় বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ( ল্যাব) কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যে একজনের ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, অপর একজন মহিলা যিনি হাসপাতাল এ বসে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নমুনা সংগ্রহের জন্য অমর চন্দ্র দাশের উপর বাড়তি চাপ পড়ে।

কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) অমর চন্দ্র দাশের। তিনি জানান,যেদিন থেকে কাপ্তাইয়ে প্রথম করোনা রুগী সনাক্ত হয়, সেইদিন হতে তাদের নমুনা সংগ্রহের চাপ বাড়তে থাকে। জীবনঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবায় তাঁদের সেম্পল কালেকশনে যেতে হয়। তিনি জানান, গত ৩১মে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া যুবকের সেম্পল কালেকশনে যেতে হয়েছে রাইখালী ইউনিয়ন এর দুর্গম এলাকায়। যেখানে প্রতিনিয়ত বন্যহাতি চলাচল করে হাতির আক্রমনের ভয় নিয়ে, মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে সেম্পল কালেকশন করেছেন। তিনি আরো বলেন, এই করোনা যুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হওয়ার পরেও তাদের সমাজের কিছু মানুষ খারাপ চোখে দেখে। তবুও পরিবারের সবাইকে নিরাপদ রেখে, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নিজের কর্মক্ষেত্রকে সম্মান রেখে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাবেন তারা। অমর চন্দ্র দাশ জানান, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে ঘর ছেড়ে এখন হাসপাতাল এ অবস্হান করছি।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাসুদ আহমেদ চৌধুরী জানান, করোনা রোগির নমুন কিংবা সন্দেহজনক রোগির নমুনা কালেকশান করে তাদের হাসপাতাল এর তিন জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ( ল্যাব) । তাঁরা যদিও পিপিই পরিধান করে নমুনা সংগ্রহ করে, কিন্ত এরপরও এই কাজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি জানান ইতিমধ্যে তাদের একজন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়, ফলে অমর চন্দ্র দাশের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরোও জানান, হাসপাতাল এ এখন আরোও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ( ল্যাব) প্রয়োজন। কারন প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহের পরিমান বাড়ছে। করোনা যুদ্ধের এই ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাকে স্যালুট জানাই।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.