ফেনীর পরশুরাম থেকে, এম.নিজাম উদ্দীন মজুমদার সজিবঃ ফেনীর পরশুরাম উপজেলা থেকে শুরু হওয়া মুহুরী নদীর বাঁধটি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বাধেঁর পাশে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বাধেঁর উপর দিয়ে বালু বহনকারি ভারী যানবাহন চলাচল, ভারতের উজান থেকে আসা পানির চাপ, বাঁধ কেটে বিভিন্ন বাড়ীর রাস্তা তৈরী এবং শুকনো মৌসুমে বাধঁ কেটে ফসলি জমির জন্য সেলোমেশিনের মাধ্যমে নদীর পানি সরবরাহ করাকে দায়ী করছে এলাকাবাসি। ভারতের বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে বল্লামুখা এলাকা থেকে ফেনীর দাইয়া বিবি গিয়ে ছোট ফেনী নদীর সাথে মিলিত হয় মুহুরী নদী।স্থানীয়রা জানায় ১৯৯৬ সালের দিকে এলাকার জনসাধারনের জানমাল রক্ষার্থে প্রায় ৬০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধঁ নির্মান করা হয়।কিন্তু বাধঁ নির্মানের পর ২০০১ সালের দিকে কিছু কিছু স্থানে বাধেঁর সংস্কার করা হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। ভারতের বিপরীত দিকে অবস্থিত বাংলাদেশ অংশে প্রায় দেড় কিলোমিটার সীমানা বাঁধ রয়েছে।স্থানীয় এলাকাবাসি পারভেজ জানায় ১৯ ৮৩ সালে বড় একটি বন্যা হয়েছিল তখন ভারতের পানি যেন বাংলাদেশে আসতে না পারে সেজন্য বিকল্প একটি বাধঁ দেয়া হয়েছিল। আওয়ামীলীগ নেতা ফিরোজ জানায় বর্ষা মৌসমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দারা কারন এখান থেকেই নদীর ঝুঁকিপূর্ন বাঁধটি শুরু হয়েছে।বর্ষা মৌসুমে এখানকার বাঁধের পাশে বসবাসকারি মানুষের নির্ঘুম রাত কাটে।এখানে স্কুল,মসজিদ,মাদ্রাসা,ফসলি জমিসহ প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার চরম ঝুঁকিতে বসবাস করে।এছাড়াও আন্তর্জাতিক ভূমি জরিপ অনুযায়ী ভারতের কাছ থেকে পাওয়া এক শত দশ একর মহুরীর চরটিও রয়েছে ভাঙ্গন ঝুঁকিতে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে সীমান্ত পাহাড়ায় নিয়োজিত নিজকালিকাপুর বিওপি। সবির আহাম্মদ ফোরকান জানায় মুহুরী নদীর নিজকালিকাপুর অংশে বেড়িবাঁধটি ভাংলে এলাকার বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হবে।এছারাও ঢাকা১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের শিল্প মন্ত্রনালয়ের মাননীয় শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কামাল আহমেদ মজুমদারের গ্রামের বাড়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি,ঘর-বাড়ি,ফসলি জমি ও কবরস্থান চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।এখানে বাঁধ ভাংলে প্রায় বিশ কিলোমিটার এলাকার বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।স্থানীয় এলাকাবাসি ফিরোজ জানায় ১৯৯৬ সালে বাঁধটি নির্মানের পর আর কখনো সংস্কার করা হয়নি। এপর্যন্ত বেড়িবাঁধটির বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০ বার ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয় এতে বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হাজারো মানুষের। ইতিপুর্বে বন্যার কারনে বল্লামুখা গ্রামে মনা মিয়া নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।তিনি বলেন পরশুরামের বিলোনিয়া থেকে শুরু হয়ে ফেনীর দাইয়াবিবি পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার বাঁধটি আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে স্থায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।স্থানীয়রা জানায় বাঁধটি আমাদের ভালোর জন্য নির্মান করা হলেও এটি নির্মানের পর কখনো সংস্কার করা হয়নি।তারা আরো জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বহুবার এখানে এসে মাপঝোপ করে নিলেও আজো কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ গ্রহন করেনি।স্থানীয় ইউপি সদস্য মনছুর জানায় ভারতের বিলোনিয়া এবং নিজকালিকাপুর থেকে শুরু হয়ে ফেনী পর্যন্ত যে বাঁধটি আছে এই বাঁধটির অবস্থা ভালো নয়।এই বাঁধটি মেরামতের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে মেরামতের ব্যবস্থা করা হলেও মানুষ কোন সুফল পায়না সুফল পায় ঠিকাদার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন বন্যাপরবর্তী সময়ে পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিব সরেজমিনে এসে পরিদর্শন করে গেছেন।এবং পরিদর্শন শেষে তাঁরা বলেছেন এখানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে চলমান আছে।সেটি সভায় অনুমোদিত হলে খুব শীঘ্রই বাঁধের স্থায়ী সংস্কারের কাজ শুরু হবে। বাঁধটি ভেঙ্গে পড়লে পরশুরাম,ফুলগাজী,ছাগলনাইয়াসহ আসপাশের শত শত রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ,মাদ্রাসা,বিভিন্ন ধর্মীয়,প্রতিষ্ঠান,হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি ক্ষয়ক্ষতির হুমকিতে রয়েছে।ভেঙ্গে যাবে মানুষের সাজানো সংসার।এলাকাবাসির একটাই দাবি আমরা ত্রাণ চাইনা চাই বাধেঁর স্থায়ী সমাধান।