চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া শহীদুল ইসলাম তাকে খুনের হুমকির অভিযোগ দিয়ে সীতাকুন্ড থানায় সাধারণ ডায়রী করেন বাড়ির মালিকের ছেলে শাহরিয়ার মাহমুদ রিয়াদের(২২) বিরুদ্ধে। রিয়াদের পিতা শাহনেওয়াজ একজন সরকারী কর্মকর্তা বলে জানা যায়।
ভাড়াটিয়া শহিদুলের বক্তব্য ও সীতাকুন্ড থানার সাধারণ ডায়রী সুত্রে জানা যায়, ছিন্নমূল এলাকা খ্যাত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা শাহনেওয়াজের স্ত্রীর নামে করা ভাড়া বাড়িতে বিগত ২০১৮ইং সালে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার করেন। একপর্যায়ে মালিকের পরিবারের সাথে শহীদুলের পরিবারের সম্পর্ক অনেকটা ঘরোয়া হয়ে উঠে। সেই সুত্র ধরে ছেলে রিয়াদ প্রায় সময় তার ডায়গনষ্টিক সেন্টারে আসতো। এতে তার সাথে শহিদুলের স্টাফদের ও একপর্যায়ে সখ্যতা গড়ে উঠে। রিয়াদ নগরীর সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়ত।
একপর্যায়ে জানতে পারে ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিক শহিদুলের সাথে ঢাকা রয়েল ইউনিভার্সিটির একজন কর্মকর্তার সাথে পরিচয় আছে। এতে সে স্উাদার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ঢাকা রয়েল ইউনিভার্সিটিতে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে সেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করানোর জন্য প্রস্তাব দেয়। মালিকের ছেলে হিসাবে ভাড়াটিয়া শহিদুল চেষ্টা করবে বলে রাজী হয়।
একপর্যায়ে চেষ্টা করে সফল হলে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ঢাকা রয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করিয়ে দেয়। পরবর্তীতে রিয়াদ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে অনিহা প্রকাশ করে। একপর্যায়ে ঢাকা রয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে পুনরায় ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে শহিদুলকে প্রস্তাব দেয়। এতে শহীদুল তার অপারগতা জানালে রিয়াদ ক্ষিপ্র হয়ে গালিগালাজ করতে করতে ছুরি ও লাঠি নিয়ে শহিদুলকে মারার জন্য তার দিকে তেড়ে আসে। সে দৌড়ে কোনভাবে নিজেকে রক্ষা করে।
শহীদুল আরো জানায় রিয়াদ ছুরি নিয়ে আসার আগে তার বাবা শাহনেওয়াজ ভাড়াটিয়া শহিদুলকে ফোনে বলেছিল তার সংসার অশান্তির হয়ে গেছে। এখন রাগে তার ছেলে রিয়াদ শহিদুলকে দা ছুরি নিয়ে এসে খুন করবে। এই ফোন ও তার ছেলের হত্যা করার উদ্দেশ্যে ছুটে আসায় সে উপায়ন্তর না পেয়ে ছিন্নমুল বিট পুলিশের শরনাপন্ন হন।
বিট পুলিশ তাকে সীতাকুন্ড থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিলে সে নিরুপায় হয়ে সীতাকুন্ড থানায় ১৫/১২/২০২০ইং তারিখে একটি সাধারণ ডায়রী করেন। যার নং ৮৫১। বর্তমানে শহিদুল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা যায়।