Thursday, August 13

সংক্রমণের হার ১০ শতাংশে নেমে এলে ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী

0

মহামারী করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলে আগামী নভেম্বরে এসএসসি এবং ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠতি হবে। পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের হার ১০ শতাংশে নেমে এলে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

রোববার (১৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

দীপু মনি বলেন, দেশের সামগ্রিক করোনার সংক্রমণ এখন নিম্নমুখী। যদিও সংক্রমণের হার এখনও ২০ শতাংশের ওপরে। আমরা আশা করছি এ হার ধীরে ধীরে কমে আসবে। তাই, পরিস্থিতি আরেকটু স্বাভাবিক হয়ে এলে প্রথমে এসএসসি, পরে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করেছি। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে হয়েছে। এখন করোনার যে সংক্রমণের হার, মৃত্যুর হার, সবকিছু মিলিয়ে যে অবস্থা, সেসব বিবেচনায় কবে নাগাদ আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারব সেটা বলার কোনো সুযোগ নেই।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তবে গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলছি, গত বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সংক্রমণের হার অনেক কমে গিয়েছিল। এ কারণেই আমরা এবারও নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষাগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরীক্ষার সময়সূচিসহ সবকিছুই ঠিক করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণের হার দশ শতাংশের নিচে চলে এলেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেব। প্রথমে আমরা আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করব। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনতে পারলে এবং করোনার সংক্রমণের হার কমে এলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেব।

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সপ্তাহে ছয় দিনের জন্যই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাব, বিষয়টি এমন নয়। আমরা প্রথম দিকে বিরতি দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাব। এভাবে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়া হবে।

দীপু মনি বলেন, করোনা খুব সহসাই বিশ্ব থেকে বিদায় নেবে, বিষয়টি এমন নয়। করোনা হয়তো অনেক দিনই বিশ্বে থাকবে, এটিকে মাথায় রেখেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষা কাঠামো তৈরি করতে হবে।

এর আগে আরও দুই দফায় প্রস্তুতি নিয়েও করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ পর্যন্ত গত ১৭ মাসে দফায় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়ানো হয়। করোনা সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সবশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান সাধারণ ছুটি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.