Wednesday, August 12

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঝড়ে পড়বে অনেক শিক্ষার্থী

0

করোনার মহামারিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আজ থেকে খুলেছে বিদ্যালয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা অনলাইন কিংবা মোবাইল ফোনসহ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল।

কিন্তু শুধুমাত্র কুমিল্লা জেলার প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষক এবং বিদ্যালয় থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে সংশ্লিস্ট সুত্রে জানা গেছে। এসব শিক্ষার্থীরা আদৌ বিদ্যালয়ে ফিরবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে দেশের বহু পরিবার দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে। আর ওইসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে শিক্ষা ছেড়ে কাজে যোগদান করেছে।

সম্প্রতি বেসরকারি একটি সংস্থার জরিপে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। গ্রামীণ পর্যায়ে জরিপ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচশতাধিক কিন্ডারগার্টেনে খোঁজ নিলে এর সংখ্যা আরো অনেক বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া বেশ কিছু মেয়েশিশুকে লকডাউনের মধ্যেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাল্যবিয়ে দিয়েছে পরিবার।

এদিকে করোনার কারণে বিভিন্ন জেলার অনেক কিন্ডারগার্টেন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সুত্র বলছে, আদৌ এসব শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ফিরবে কি না এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে মহামারি করোনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নির্ধারণে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়নমুলক সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় আউট অব স্কুল চিলড্রেন নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এই কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য ঝরে পড়ার হার চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফেরানো।

৮ থেকে ১৪ বছর বয়সি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জরিপ শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যেসব এলাকায় বিদ্যালয় বহির্ভূত শিক্ষার্থী রয়েছে তার একটি ম্যাপিং করে শিক্ষার্থী যাচাই-বাছাই করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী চিহ্নিত করা হবে।

একটি জরিপে দেখা গেছে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বেশি ঝরে পড়ার আশংকা রয়েছে।

জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বলা হয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের তালিকা করতে। এই তালিকা সম্পন্ন হলে জেলার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানোর বিষয়ে কাজ শুরু করবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.