রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকার ছয়তলা ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে আজ শনিবার ভোরে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিতু হাসান নামে একজন (২৮) মারা গেছেন।
প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, কোনো কারণে ওই ফ্ল্যাটে মিথেন গ্যাস জমে ছিল বলে বিস্ফোরণ ঘটে।
জিতু হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইএমবিএ করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর গ্রামের বাড়ির পাবনার গঙ্গারামপুরে। তাঁর শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল।
এ ঘটনায় দগ্ধ ইয়াসিন তালুকদার (৩২) আশঙ্কাজনক অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তাঁর শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্থ শংকর পাল। তিনি লেখাপড়া শেষ করে চাকরি খুঁজছিলেন। তকাল শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টায় হঠাৎ ওই ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটে। দগ্ধ দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ভবনটির নিচতলার স্যানিটারি দোকানের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। দোকান থেকে বের হয়ে দেখি দুজন শরীরে আগুন নিয়ে নিচে নেমে আসছে। পরে তাঁদের শরীরে পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’ তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, আগুন ছড়ানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে আনেন স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনা নিছক কোনো দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওই ভবনের মালিক আবদুল লতিফ বলেন, ‘তিনতলার ফ্ল্যাটটিতে পাঁচজন ব্যাচেলর থাকেন। তাঁরা চার বছর ধরে ওই ফ্ল্যাটেই আছেন। তিনজন আগে থেকেই চাকরি করতেন। এখন সবাই চাকরিজীবী বলেই জানি।’
ঘটনার পর ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু একটি কক্ষের সবকিছু পুড়ে গেছে। অন্য কক্ষের কোনো ক্ষতি হয়নি। এমনকি রান্নাঘরেও আগুন ছড়ায়নি।
এদিকে ঘটনার পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, কোনো কারণে ওই ফ্ল্যাটে মিথেন গ্যাস জমে ছিল বলে বিস্ফোরণ ঘটে।