চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বার আউলিয়ায় কবির স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটি ইয়ার্ডে ফের দুর্ঘটনায় মুজিদুল হক (৩৬) নামে এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ ইয়ার্ডটি বন্ধ দাবি করলেও গত ৭ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টায় কাজ করার সময় হাতে লোহার পাত পড়ে আহত হন ওই শ্রমিক।
এর আগে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় কবির স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটি ইয়ার্ডের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি আরিফুল ইসলাম সুজন নামে এক শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ইয়ার্ড বন্ধ ঘোষণা করে। সেই বন্ধ ইয়ার্ডে ফের দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মুজিদুল হক!অবশ্য মন্ত্রণালয় ও সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তথ্যমতে ইয়ার্ডটি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এই বন্ধ ইয়ার্ডে কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটলো সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। ইয়ার্ড চালু রাখা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে ইয়ার্ডের কার্যক্রম চালু রেখেছে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ। শুধু দেখছেন না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি সুজনের মৃত্যুর ঘটনায় ১৪ এপ্রিল ইয়ার্ডের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার আদেশ দেয়া হয়। ওই আদেশ এখনও বলবত আছে। বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করিয়েছি। নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ার্ড বন্ধ বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টায় নোয়াখালী বসুরহাট এলাকার বাসিন্দা মুজিদুল হক (৩৬) কাজ করার সময় আহত হন। ৩ সন্তানের জনক মুজিদুল হক ইয়ার্ডে কাটার হেলপার হিসাবে কর্মরত ছিলেন। হাতে লোহার পাত পড়ে গুরুতর আহত হন সে। ভাঙা হাতে প্লাস্টার করে গলার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ কবির স্টিল বহন করছে বলে জানিয়েছেন মুজিদুল হক।
তিনি বলেন, কাজ করার সময় লোহার একটি পাত পড়ে বাম হাতে ব্যাথা পাই। মালিকপক্ষ চিকিৎসা খরচ দিচ্ছেন। ইয়ার্ডে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের আগে আর কাজে যোগ দিব না। সুস্থ হওয়ার পর ওই ইয়ার্ডেই যোগ দেব।
বাংলাদেশ মেটাল ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে ইয়ার্ডের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কেএসআরএম। সুজনের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে আরেক শ্রমিক আহত হয়েছে। ওই শ্রমিককে গোপনে চিকিৎসা দিচ্ছে কেএসআরএম
সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ইয়ার্ড বন্ধ থাকার মতামত সঠিক নয় দাবি করে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এবিষয়ে গত রবিবার ইউএনও অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি নিজে গিয়ে দেখেছি, ইয়ার্ড চালু আছে। শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছে; তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘কেএসআরএম যদি গোপনে কারখানা চালায় তাতে আমাদের কিছুই করার নেই। আমি যখন তদন্তে গিয়েছিলাম তখন তা বন্ধ ছিল। সে হিসেবে আমি মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট দিয়েছিলাম।’
গোপনে কারখানা চালু রাখার বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, কেউ খবর দিলে আমরা ব্যবস্থা নিব। তাছাড়া আমাদের করার কিছু নেই।