চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন চিকনদন্ডী এলাকা থেকে রাসেল আজম বাহাদুর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১ ও ৩নং পলাতক আসামী ইয়াছিন ও কাজলকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব সুত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর ২০২২ খ্রিঃ তারিখ উক্ত মামলার এজাহারনামীয় ৩নং আসামী মোঃ ইসহাক(৫০)’কে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয় এবং বাকী পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে, উক্ত হত্যা কান্ডের এজাহারনামীয় ১ ও ২নং আসামী ইয়াছিন ও কাজল চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন চিকনদন্ডী এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল গত ০৫ নভেম্বর ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে আটক করে। আসামীরা হলেন, ১। ইয়াছিন আরাফাত (২২), পিতা-মোঃ ইছাহাক, সাং-নাপিতখালী পাড়া, থানা-চকরিয়া, জেলা-কক্সবাজার এবং ২। মোঃ কাজল (২৪), পিতা-মোঃ ইছাহাক, সাং-নাপিতখালী পাড়া, থানা-চকরিয়া, জেলা-কক্সবাজার।
উল্লেখ্য, রাসেল আজম বাহাদুর(৩০) কক্সবাজার জেলার চকরিয়া এলাকার একজন সিএনজি চালক ছিলেন। গত ১৩ অক্টোবর ২০২২ইং তারিখে স্থানীয় বদরখালী কলেজপাড়া এলাকার যুবক মোঃ ইয়াছিন(২০) তার মাকে নিয়ে রাসেলের সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়ে বদরখালী বাজারে যান। ইয়াছিনের বাবা মোহাম্মদ ইসহাকের বদরখালী বাজারে খাবার হোটেল রয়েছে। বদরখালী বাজারে পৌঁছার পর অটোরিকশা চালক রাসেলের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ইয়াছিন ও তার মা আছিয়ার ভাড়া নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভাড়া মিটিয়ে দেবার পর ভিকটিম ইয়াছিনের বাবার হোটেলে গিয়ে খাবার খাওয়ার জন্য বসলে ভিকটিমের সাথে ইয়াছিনের পূর্বের বিষয় নিয়ে আবার তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং তর্কের এক পর্যায়ে ইয়াছিন দোকান থেকে ছুরি নিয়ে রাসেলের বুকে আঘাত করেন। এ সময় ইয়াসিনের সহযোগী কাজল এবং অন্যান্য আসামিরাও ভিকটিমকে এলোপাথাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রাসেলকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে তার পিতা বাদী হয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানায় ০৪ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতমনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ২১।