শান্ত ইসলাম দিপুঃ চট্টগ্রামের ২নং গেইট এলাকায় রেলের ইমাজেন্সী বেরিয়াল পড়ায় এক গেইট কিপারের উপর অনৈতিক ভাবে স্টেশন মাষ্টারের বিরুদ্ধে জরিমানার টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।
গেইট কিপার সুত্রে জানা যায়, বাবুল গত দুমাস আগে রেলের ‘২নং গেইট ঘরে” জয়েন্ট করেছে। শারীরিকভাবে সে অসুস্থ। তবু জীবন ও সংসার চালানোর তাগিদে অসুস্থতার মাঝেও কাজ করে যাচ্ছেন। গত ১৩ নভেম্বর ২০২২ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে গেইট ঘরে অবস্থান করছিল। এই সময়ে রাস্তায় চলাচলরত গাড়ির মধ্যে বিজিপির একটি এম্বুলেন্স রেলরাস্তা পাড় হওয়ার সময় বাতাসের কারনে ইমাজেন্সী বেরিয়াল পড়ে যায়। এতে এম্বুলেন্সে হালকা আঘাত লাগে। এতে বিজিবির কর্মকর্তারা গেইট ঘরে ঢুকে বাবুলের কাছে আসে । তারা বাবুল থেকে নম্বর নিয়ে স্টেশন মাস্টার ফখরুল সাহেবকে ফোন করে। তিনি ঘটনাস্থলে এসে গেইট কিপার বাবুলকে দায়ী করে তার থেকে তাদের এম্বুলেন্সের ক্ষতি বাবদ ছয় হাজার টাকা আদায় করে।
বাবুল আরো বলে, আমি এখানে নতুন এসে যখন ইমাজেন্সী বেরিয়াল দুর্বল দেখেছি তখন ষ্টেশন মাষ্টার ফখরুল সাহেবকে কয়েকবার অবগত করেছি। তিনি ইঞ্জিনিয়ার সেকশানে জানাবেন বলেছেন। কিন্তু কি কারনে ঠিক হয়নি তা জানিনা। এসব দেখাশুনা বা ঠিক করার কাজ ইঞ্জিনিয়ার সেকশনের। স্টেশন মাষ্টার জানালে তারা এসে চাহিদা মোতাবেক ঠিক করে যায়। আমি স্টেশন মাস্টারের অধিনে আছি। কোন অভিযোগ থাকলে আমাদের তাকেই জানাতে হবে। তিনিই ব্যাবস্থা নিবেন। অথচ সেদিন ইমাজেন্সী বেরিয়াল পড়ার পিছনে আমার কোন হাত ছিলনা। আমি সেখানে উপস্থিতও ছিলাম না। তিনি এই ঘটনায় উপস্থিত হয়ে বিজিবিকে বিষয়টি বুঝিয়ে না বলে আমাকে বলেন, তারা আমাকে তুলে নিয়ে যেয়ে মামলা করবে এই বলে ভয় প্রদর্শন করেন। পরে আমাকে ছুটিয়ে আনতে লাখ টাকা খরচ হবে। তাই- এম্বুলেন্স ক্ষতির অংশ আমি ঠিক করে দিতাম, না হলে জরিমানা দিতাম। আমি নির্দোষ বলার পরও তিনি আমাদের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে না জানিয়ে অনৈতিকভাবে আমার থেকে ছয়হাজার টাকা আদায় করেন। যা আমার জন্য অনেক কষ্টের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। একেতো গত চারমাস বেতন পাইনা, অনেক কষ্টে আছি। তারমধ্যে এই ক্ষতিপুরণ আমার উপর মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে। আপনারা বলেন, একদিকে আমি অপারেশনের রোগী তার উপর বেতন পাচ্ছিনা, এর মধ্যে এই জরিমানা দিতে আমাকে অনেকের কাছে হাত পাততে হয়েছে। আমার কোন কথাই উনি শুনেননি। একপর্যায়ে ধারদেনা করে আমি জরিমানার ছয়হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। আমি বিষয়টি আমাদের উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি তারা ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ^াস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ষ্টেশন মাষ্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, সেদিন তৎক্ষনাত বাবুল থেকে টাকা নিয়ে বিজিবির দাবীকে সমাধান করেছি। উধ্বতন কর্মকর্তাকে বেরিয়াল ঠিক করার জন্য জানানো হয়েছে। তারা ঠিক করবে।