সঞ্চয়পত্রের সুদহার ব্যাংক রেটের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যথাসময়ে এটি পুনর্র্নিধারণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের উপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সাধারণভাবে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ব্যাংক রেটের চেয়ে বেশি হয়। যথাসময়ে এটি পুনর্র্নিধারণ করা হবে। তবে সঞ্চয়পত্রের সুদহার ২ শতাংশ বেশি রাখা দরকার।
এদিকে ৮০০ টাকা আবগারি শুল্ক নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকে আমানতের উপর কর নতুন কিছু নয়। করের হারটা শুধু একটু বৃদ্ধি করেছি। এটাই একটু তফাৎ। হ্যাঁ, এটা আপনারা দিয়ে যাচ্ছেন বহু বছর ধরে। নিজের বক্তব্যে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট ৮৪ বছরের অভিজ্ঞতা, কর্মক্ষমতা, ব্যর্থতা নিয়ে করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্ন্তজাতিকভাবে রেমিট্যান্স কমেছে। পশ্চিমাদেশগুলো ছাড়া সব দেশের রেমিট্যান্সই কমেছে। কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেমিটাররা অনেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন। সেখানে বাস করার সুযোগ পাচ্ছেন। সেখানে তারা যথেষ্ট সম্পদ রাখেন। সে কারণে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমে গেছে। তবে আমাদের রেমিট্যান্স কমেনি।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারিখাতে রেমিট্যান্স বেড়েছে। বেসরকারিখাতে রেমিট্যান্স কমানোর জন্য আমরা সরকারিখাতে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর চেষ্টা করছি। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী সংস্থাগুলোর যে খরচ হয় সেগুলো আমরা বহন করার চেষ্টা করছি। যাতে তারা সহজ শর্তে নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। এজন্য একটি স্কিম তৈরি করছি, যা আগামীতে প্রকাশ করা হবে।
সংসদ সদস্যের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, টাকা পাচাররোধের যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটা অকার্যকর। এটি বেআইনি। এটা রুদ্ধ করার সুযোগ নেই। আমরা টাকা পাচারের সুযোগ কমাতে পারি। অর্থাৎ কালো টাকা দেশে যাতে না হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া। আমরা কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছি, আপনারা আগামী মাসের মধ্যে তা দেখবেন। কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব কয়েক বছর ধরে আমি দিচ্ছিনা। তবে নিয়মিতভাবে সাদা করার ব্যবস্থা এ দেশের আইনে আছে। সেখানে কার্যকরী জরিমানা দিতে হয়। জরিমানা দিয়ে কালোটাকা সাদা করেন। জরিমানার পরিমাণ ২০ শতাংশ। সেই ব্যবস্থা চালু আছে, থাকবে।