Sunday, November 8

গোপালগঞ্জে বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে তাঁত বস্ত্র মেলার আয়োজন

0

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে তাঁত বস্ত্র মেলার স্থান নির্ধারন করা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উত্তর খুজতে সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গেলে সেখানে মেলার দোকান এবং স্থান বড় করার জন্য কিছু ঔষধি গাছ কেটে ফেলার দৃশ্য চোখে পড়ে। ওই স্থানটি ছিল প্রাকিৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন প্রকার বনজ এবং ঔষধি গাছের একটা মনোরম পরিবেশ।

গোপালগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ সকালে বিকালে হাটার পরে ওই গাছের তলায় বিশ্রাম নিতেন । কিন্তু কয়েক দিন ধরে সেখানে তাঁত বস্ত্র মেলার তোর জোর চলছে। এই মেলার সাথে জড়িতরা সেখানের কিছু গাছ কেটে নিজেদের দোকান তৈরি করছে বলে কিছু মানুষ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সোচ্চার হয়ে ওঠে। অনেকে নানা রকম প্রশ্ন করেন কেন এই জায়গাটি মেলা করার অনুমতি দেওয়া হলো ? পরিবেশবাদীরা নিশ্চুপ কেন ? প্রশাসন গাছ কাটা থেকে কেন বিরত করছে না ?

গোপালগঞ্জে শহরের ষ্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে শেখ রাসেল শিশু পার্ক। এই পার্কটির পাশে এ রকম একটা মেলা দেওয়ায় পার্কের ও রোজগার কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। তাঁত বস্ত্র মেলার নামে যে মেলা হতে যাচ্ছে এই মেলায় জনসাধরেনের কত টুকু উপকার হতে পারে ? গোপালগঞ্জের সাধারন মানুষের মনে এখন নানা রকম প্রশ্ন।

গোপালগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আব্দুল জলিল একটি প্রঞ্জাপন জারি করেন। উক্ত প্রঞ্জাপনে তিনি বলেন তাঁত বন্ত্র মেলার স্থানে এবং চার পাশে পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে । মেলা স্থান ও তার চার পাশে পরিবেশের ক্ষতি সাধিত হয় এমন কোন কার্যক্রম গ্রহন করা হলে তা অনৈতিক কার্যকলাপ বলে বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে মেলার অনুমতি বাতিল করে কঠোর আইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোখলেসুর রহমান সরকারের সরেজমিনে গিয়ে জায়গাটি পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাহাবুব আলী খানের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলাপ করলে তিনি জানান, জায়গাটি আমাদের কাছে অনেক সুন্দর পরিবেশ ছিলো। তিনি আরো বলেন আমিও মাঝে মাঝে হাটতে যেতাম এবং গাছের তলে গিয়ে বসতাম। যদি এমন কোন অঘটন ঘটে তবে মেলা কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থাা নিতে।

গোপালগঞ্জের স্বচেতন মহল মনে করেন এই ধরনের বনজ ও ঔষধি গাছ গেটে মেলা করার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এবং এই সকল মেলার স্থান নির্ধারনের সময় সতর্ক থাকতে হবে। অধিকাংশ মানুষের দাবি এই মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া হোক। বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়া অভিভাবকরা জানান সামনে মাস থেকে তাদের সন্তানদের পরীক্ষা শুরু হবে। তাই এই মেলায় তাদের সন্তানদের পরীক্ষা বিঘ্ন ঘটবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.