সদ্য প্রয়াত চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানী অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১০ জন মারা গেছেন।
সোমরা দুপুরে নগরীর রিমা কমিউনিটি সেন্টারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসাই হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বেশ কজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে আজ চট্টগ্রামের ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে কুলখানি ও মেজবানের আয়োজন করা হয়।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নগরীর মুসাফিরখানা মসজিদে রোববার আসরের পর দোয়া এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিন নগরীর প্রতি ওয়ার্ডে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
অন্যদিকে সোমবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখেরও বেশি মানুষের জন্য কুলখানি ও মেজবানের আয়োজন করা হয়।
এর মধ্যে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ অমুসলিমদের জন্য মেজবানের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে দুপুর ১টার পর প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। এক পর্যায়ে হুড়োহুড়ি করে ঢোকার সময় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তবে নিরাপত্তার কোনো কমতি ছিল না বলে জানান সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার। রিমা কমিউনিটি সেন্টারের পাশাপাশি নগরীর আরও ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে কুলখানি ও মেজবানের আয়োজন করা হয়। এগুলো হচ্ছে- কিং অব চিটাগাং,স্কয়ার, কিশলয়, সুইস পার্ক, স্মরণিকা, এন মোহাম্মদ, কে বি কনভেনশন হল, ভিআইপি ব্যাংকুয়েট, গোল্ডেন টাচ, স্মরণিকা, সাগরিকা কমিউনিটি সেন্টার।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর দিনগত রাত ৩টার দিকে বন্দরনগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন চট্টল বীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ১৯৯৪ সাল থেকে টানা তিনবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। জনপ্রিয় এই সাবেক মেয়রের বাড়ি চট্টগ্রামের ষোলশহরে।