Thursday, November 5

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কমছে না দূর্ঘটনা: প্রবনতা ছোটবড় আনফিট গাড়ীগুলো

0

তৌহিদুল ইসলাম, মীরসরাই : অদক্ষ চালক, রুটপারমিট ও ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এখনো নিত্য চলাচল শুরু করছে আনফিট বিভিন্ন বাস ট্রাক, আবার পাশাপাশি কিছু আনফিট লেগুনা ও দেখা যায় এখনো। লক্কড়ঝক্কড় মার্কা এসব গাড়ীগুলোতেই ছোট বড় দূর্ঘটনা প্রবনতা বাড়ানোর কারন বলে মনে করছে সচেতন মহল।

গত দুবছরে এক সাথে ৫জন, ৭জন, সহ বেশ অর্ধশতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই চট্টগ্রাম থেকে ফেনী অংশে। দুর্ঘটনা প্রবনতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সবাই সচেতনতার চেষ্টা করলে ও কার্যকর উদ্যোগ এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কারন এখনো আনফিট সকল শ্রেনীর গাড়িই মহাসড়কে চলছে নিত্য।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এই রুটের চট্টগ্রাম টু বারইয়াহাট ভায়া ছাগলনাইয়ার চয়েস নামক পরিবহনেই অধিকাংশ আনফিট গাড়ি নিয়ে চলাচল করছে বলে শত শত নিয়মিত যাত্রীরা অভিযোগে জানায়। ফেনী কুমিল¬ার কিছু আনফিট গাড়ী ফিটনেস হারালে এই রুটে এনে চড়া ভাড়ার সিন্ডিকেটে ঢুকিয়ে এই চয়েস নাম দিয়ে চালাচ্ছে এই গাড়িগুলো।

গত বৃহস্প্রতিবার চট্টগ্রাম থেকে আসা চয়েস বাসের যাত্রী ্ডাঃ নজরুল ইসলাম জানান চট্টগ্রাম থেকে এখানে অন্যান্য সকল বাস ৫০ টাকা নিচ্ছে। ভালোমানের যাত্রীসেবা পেতে প্রায় দ্বিগুন ভাড়া দিয়ে এলাম। অথচ বাসের সংকীর্ণ সীটে পায়ে ব্যাথা হয়ে গেছে, আবার ভাঙ্গাচোরা বডি নিয়ে বাসটি কয়েকবারই যেন হুমড়ীখেয়ে রাস্তার বাহিরে যাবার উপক্রম। তিনি আরো বলেন কিছু অসাধু সিন্ডিকেট বিভিন্ন মহলকে হাত করে এই নিন্মমানের ঝুকিপূর্ণ সার্ভিস সবাইকে নীরবে সইতে হচ্ছে। অথচ দেশের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অর্থনৈতিক সহ বিভিন্ন ভাবে এগিয়ে যাওয়া এই রুটই এখনো পিছিয়ে।

এই চয়েস ও উত্তরা পরিবহনগুলো সহ আনফিট সকল গাড়ীর বিষয়েই প্রশাসনের জিরো টলারেন্স প্রয়োজন বলে মনে করেন বারইয়াহাটের সচেতন নাগরিক শান্তিনীড় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন সোহেল।

এদিকে হিউম্যান হলার বা লেগুনা নামের কিছু বাহনের মালিক-শ্রমিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। এসব লেগুনার অধিকাংশ চালকই অদক্ষ ও শিশু-কিশোর। ১২ -১৪ বছর বয়সী অনেক শিশুকে ও লেগুনাতে চালক কিংবা চালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। এই বিষয়ে এই রুটের চট্টগ্রাম- ধূম শুভপুর তথা চয়েস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম আজাদীকে বলেন আমি স্বীকার করছি কিছু পুরোনা গাড়ী রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে এইসব গাড়িগুলো আমরা আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়ন এর উদ্যোগ গ্রহন করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই যাত্রীগন উত্তম সেবাই পাবেন।

উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে ও বারইয়াহাটে নিন্মমানের গাড়ি দিয়ে উচ্চ মাত্রার ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বারইয়াহাট বাজারে দফায় দফায় সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটেছে।

এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন আমরা আনফিট গাড়ীর বিষয়ে উর্দ্ধতন মহলের সাথে আলোচনা তদারকি বৃদ্ধি করবো শীঘ্রই। ফিটনেস ও কিশোর ড্রাইভারদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিবো শীঘ্রই বলে জানান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.