Wednesday, November 4

জাফর ইকবালের ওপর হামলা: হামলাকারীর মামা আটক

0

বিশিষ্ট লেখক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী হামলাকারী ফয়জুল হক (২৫) ওরফে ফয়জুলের রহমানের শেখপাড়ার বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালিয়েছে। সে সময় বাসাটি বাইরে থেকে তালা লাগানো থাকায় তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সেসময় ভেতরে ফয়জুরের মামা ফজলুর রহমান অবস্থান করছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহবায়ক। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাত সোয়া ১ টার দিকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি বাসাটি থেকে একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার রাত ১২টার কিছু সময় পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বাসাটিতে তল্লাশি চালায়। তবে, সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা সংস্থা ও থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে হামলাকারী সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কলিয়ারকাপন গ্রামের হাফেজ আতিকুর রহমানের ছেলে।

পরিবারের সঙ্গে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার থাকত ফজলুল। তিনি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছেন বলে জানা গেছে।

মঈন কম্পিউটার নামে সে একটি দোকানে কাজ করতো বলে জানা গেছে। কখনো কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী, কখনো মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবার কখনো ফেরি করে কাপড় বিক্রির আড়ালে অনেকটা রহস্যেঘেরা জীপন যাপন করতেন হামলাকারী ফজলুল।

উল্ল্যেখ্য, শনিবার বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলাকালে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল হামলার শিকার হন। তার পেছনে থাকা ফয়জুর রহমান ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন।

রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানে একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শনিবার রাতে বিমানবাহিনীর একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আনা হয়। পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে।

হামলাকারী ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাসিন্দা ফয়জুর রহমান। তার মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে আতিকুর রহমান পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে সিলেটে চলে যান। সেখানেই পরিবারের সঙ্গে ফজলুল বসবাস করে আসছিলো।

এলাকায় তেমন একটা আসা যাওয়া ছিলনা পরিবারের লোকজনের। বছরের দুটি ঈদেই কেবল আতিকুর রহমান পরিবারের লোকজনকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসতেন।

উপজেলার জগদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শোভা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় আতিকুর ও তার ছেলে কিংবা পরিবারের লোকজন খুব বেশি আসা-যাওয়া করতো না। মাস খানেক আগে ফজলুল কিছু কাপড় নিয়ে এসেছিলো গ্রামের বাজারে। বিক্রি করে আবার সিলেটে চলেও গেছে বলে জানতে পেরেছি।

এলাকাবাসী আরো জানায়, ফয়জুল এলাকার মসজিদকে হানাফি মাযহাবের মসজিদ দাবি করে নিজে ওই মসজিদে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.