এসএমই পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতা আকর্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ষষ্ঠ জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এই খাতে দেশে প্রতি বছর দশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নারীর আর্থিক উন্নতি পরিবার ও সমাজকে স্বচ্ছল ও উন্নত করবে। নারীর আর্থিক উন্নতি নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নত হবে।
ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পণ্যের এই মেলা। এসএমই ফাউন্ডেশন এবং এফবিসিসিআই এর যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাঁচদিনের এই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় মাইক্রো উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে দুইজন নারী এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে তিনজন পুরুষ উদ্যোক্তার হাতে বর্ষসেরার পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
ঠান্ডাজনিত সমস্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহ যোগাতেই অসুস্থতার পরও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা জানান, স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ হলেও দেশের ৯০ শতাংশ শিল্প মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের। তাই এসএমই খাত দেশের জিডিপিতে প্রায় ২৫ শতাংশ অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থিক উন্নয়নে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও লিখিত বক্তব্যে জানান শেখ হাসিনা। ক্রমবিকাশমান এই খাতের উন্নয়নের জন্যই সরকার ২০০ কোটি টাকা দিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া, তফসিলী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইউনিট গঠন, নারীদের জন্য সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ ব্যবস্থা, সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের এসএমই ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চালু রাখা এবং শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমি ও আরো ছয়টি মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনসহ এই খাতের উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জাতীয় এসএমই মেলা দেশে উৎপাদিত এসএমই পণ্যের পরিচিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নতুন ক্রেতা তৈরি ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে এসএমই মেলা ২০১৮ এর উদ্বোধন করেন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন তিনি।
ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, ক্ষুদ্র পরিসর থেকে ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে এই শিল্প। সঠিক পৃষ্ঠাপোষকতা অব্যাহত থাকলে এগিয়ে যাবে এসএমই খাত।