ষ্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানা এলাকায় নুর উদ্দিন হত্যার প্রধান আসামি মাদক ব্যবসায়ী নুর হোসেন ওরফে চাপাতি হাসান এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার না হ্ওয়ায় এলাকাবাসী আতংকিত।
এলাকাবাসি জানান, ফতেয়াবাদ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী, ভূমি দস্যু ও মাদক ব্যবসায়ী নুর হোসেন ওরফে চাপাতি হাসানের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ফতেয়াবাদ এলাকাবাসী অনেক আগে থেকেই অতিষ্ট।
হাটহাজারী থানায় নিহত নুর উদ্দিনের ভাই মহিউদ্দিনের দায়ের করা এজাহার সুত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায় রাজী না হ্ওয়ায় চাপাতি হাসানের নেতৃত্বে গত ২৬ মে ২০১৮ তারিখ সকালে মোঃ নুর উদ্দিনকে তার সন্ত্রাস বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে বিদ্যুতের পিলারের সাথে বেধে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন করে। খবর পেয়ে নুর উদ্দিনের পরিবারের লোকজন তাকে বাঁচাতে গেলে তাদের উপরেও বর্বরোচিত নির্যাতন চালায় এই সন্ত্রাস বাহিনী। পরে হাটহাজারী মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে নুর উদ্দিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করনে।পুলিশের টের পেয়ে আসামীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশের সহায়তায় নির্যাতিত নুর উদ্দিন কে প্রথমে হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নুর উদ্দিনের শারিরিক অবস্থার অবনতি দেখে হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আহত নুর উদ্দিনকে চমেক হাসপাতালের ২৮ নং ওয়ার্ডের ১৫ নং বেডে ভর্তি করা হলে ২৯ মে ২০১৮ ইং তারিখ সন্ধ্যা ৭.২০ ঘটিকার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই নিয়ে ২৯-০৫-২০১৮ ইং তারিখ মৃত-নুর উদ্দিনের ভাই মোঃ মহিউদ্দিন (৩০) বাদি হইয়া মোঃ নুর হোসেন ওরফে চাপাতি হাসান সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ধারা-৩৪১/৩৬৪/৩২৩/৩২৫/৫০৬/ ৩৪ দ:বি:। এছাড়াও চাপাতি হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান। নিহত নুর উদ্দিনের স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন (২৮) এবং নিধি (৭), নওশীন (৫) নামের দুই শিশু কন্যা রয়েছে।এই পবিত্র ঈদে শোকই যেন তাদের সঙ্গি ।
জানা যায়, নিহত নুর উদ্দিন একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। নিহতের পিতা আলী আহম্মদ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। নিহতের চাচা সুলতান আহম্মেদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হয়েও প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার পাচ্ছেনা বলে তার পরিবারের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন মুরুব্বি বলেন, মদ, গাজা, ইয়াবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে জিরো থেকে হিরোতে পরিণত হয়েছে এই নুর হোসেন ওরফে চাপাতি হাসান। শুধু তাই নয় ফতেয়াবাদ এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এই হাসান। স্কুল, কলেজের ছাত্রদের হাতে তুলে দিচ্ছে ইয়াবা। এলাকার যুবকদের মাদকের নেশায় আশক্ত করে এবং তাদের দিয়ে সিন্ডিকেট করে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, মার্ডার ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করে নিজেকে তৈরী করেছে সন্ত্রাসীর গডফাদার হিসেবে।
সরেজমিনে আরো জানা যায়-নুর হোসেন ওরফে চাপাতি হাসানের একটি টর্চার সেল আছে যেখানে সে লোকজন ধরে নিয়ে গিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে, কারো হাত-পা ভেঙ্গে দেয়, কারো পায়ের রগ কেটে দেয়, কেউ কেউ তার হাতে এহেন নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ফতেয়াবাদ এলাকার সাধারণ মানুষ তার এই সন্ত্রাস বাহিনীর কাছে নির্যাতনের শিকার ও জিম্মি। কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না। যদিও বা কেউ প্রতিবাদ করে তাহলে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে।
এলাকায় প্রবাদ আছে, হাটহাজারী থানার কোন এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার প্রশ্রয়ে এই ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে চাপাতি হাসান।
ফতেয়াবাদ এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার, বর্তমান সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিপক্ষের সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশে সন্ত্রাস নিধন ও মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। প্রশাসন কেন এই মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী গডফাদার নুর হোসেন ওরফে চাপাতি হাসান কে ধরে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিচ্ছেনা। সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ী কোন দলের হতে পারেনা। এরা দেশের শত্রু, এরা জাতির শত্রু। আমাদের ফতেয়াবাদবাসীর প্রশাসনের কাছে জোর দাবি, যত দ্রুত সম্ভব এই মাদক ব্যবসায়ী, খুনি ও সন্ত্রাসী গডফাদার নুর হোসেন ওরফে চাপাতি হাসানকে আইনের আওতায় এনে জাতির সামনে কঠোর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক।
মামলার বাদী নিহত নুর উদ্দিনের ছোট ভাই মোঃ মহিউদ্দিন বলেন- মাদক ব্যবসায়ী চাপাতি হাসানের সাথে মাদক ব্যবসা করতে রাজী না হওয়াতে আমার বড় ভাইকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে এই চাপাতি হাসান বাহিনী। তিনি প্রশাসনের কাছে তার বড় ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও তাদের দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীরের কাছে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন-তদন্ত চলছে এবং এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের আটকের ব্যাপারে পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে।