
শনির আখড়ায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে গেলো পিক-আপটি
ভিডিওটি ভাইরাল হচ্ছে। নিরাপদ সড়ক আর সহপাঠী হত্যার বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে কোমলমতি শিশুরা। তারা আন্দোলন করে যাচ্ছে। এমনিতেই নৌপরিবহন মন্ত্রীর হাসিমুখের বক্তব্য আর শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনগণ। এমনিতেই শহরে গণপরিবহন চালকদের আচরণ ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অনেক দিন ধরে। তারা যাত্রী বা রাস্তার মানুষদের মানুষ মনে করে না। এরই মধ্যে আজকের একটি ভিডিও চমকে দিচ্ছে সবাইকে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে-রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে চালকদের বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে একদল শিক্ষার্থী ঢাকা-চিটাগাং রোডের শনিরআখড়ায় আন্দোলন শুরু করে। এসময় ঢাকাগামী একটি পিক-আপকে শিক্ষার্থীরা থামিয়ে দিলে পিক-আপটির সামনে একজন শিক্ষার্থী উঠে পড়ে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী পিক-আপটি ধরে থাকে। শিক্ষার্থীদের বাধা উপেক্ষা করে চালক ট্রাকটি সামনের দিকে চালিয়ে যায়। এভাবে অনেকদূর পর্যন্ত ঝুলন্ত অবস্থায় যেতে দেখা যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলছেন ওই শিক্ষার্থী মারা গেছেন। তবে নির্ভরযোগ্য কোনও সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
কেবল ভিডিওটি মিলেছে। এই ভিডিও প্রসঙ্গে একটি ফেসবুক আইডি থেকে কিছু তথ্যও মিলেছে। বলা হচ্ছে এ ঘটনা আজকের, স্থান শনির আখড়া। পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হচ্ছিল। প্রতিটি গাড়ির ড্রাইভারের লাইসেন্স চেক করা হচ্ছিল। লাইসেন্স না থাকলে ড্রাইভারকে নামিয়ে ভাংচুর করা হচ্ছিল। একটি লেগুনার ড্রাইভারকে থামিয়ে লাইসেন্স চেক করার চেষ্টা করা হলে একজন ছাত্রের গায়ের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দিয়ে চলে যায়। আমার কথা হচ্ছে বাস, পিকাপ ভ্যান, ট্রাক ড্রাইভাররা কি সাধারণ জনগণকে মানুষ মনে করে না নাকি? এই জাস্টিস ফর সেইফ রোডস আন্দোলনে যে ছেলেটির ওপর দিয়ে পিকাপ ভ্যান তুলে দিয়ে চলে গেলো সেই ছেলেটির দায়ভার কে নেবে? নাকি আরো মৃতদেহ লাগবে জাস্টিস পাওয়ার জন্য?
লোকেশন : শনির আখড়া’
এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আজ বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বারডেম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু করে রামপুরা, বনশ্রী, ধানমন্ডি, উত্তরা এলাকাতেও সড়ক অবরোধ করে তারা। এর মধ্যে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় মিরপুর রোডে অবস্থান নেয় ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস কলেজ, কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ, শেখ বোরহান উদ্দীন কলেজ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজ, তিতুমীর কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত রোববার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে মৃত্যু হয় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার মীম ও আব্দুল করিমের। এরপর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই হত্যার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। আজ চতুর্থ দিনের মতো তারা রাস্তায় নেমেছে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হচ্ছিলো। প্রতিটি গাড়ির ড্রাইভারের লাইসেন্স চেক করা হচ্ছিলো। লাইসেন্স না থাকলে ড্রাইভারকে নামিয়ে ভাংচুর করা হচ্ছিলো। একটি লেগুনার ড্রাইভারকে থামিয়ে লাইসেন্স চেক করার চেষ্টা করা হলে একজন ছাত্রের গায়ের উপর দিয়ে উঠিয়ে দিয়ে চলে যায়। আমার কথা হচ্ছে বাস, পিকাপ ভ্যান,ট্রাক ড্রাইভাররা কি সাধারণ জনগণকে মানুষ মনে করে না নাকি? এই জাস্টিস ফর সেইফ রোডস আন্দোলনে যে ছেলেটির উপর দিয়ে পিকাপ ভ্যান তুলে দিয়ে চলে গেলো সেই ছেলেটির দায়ভার কে নিবে? নাকি আরো মৃতদেহ লাগবে জাস্টিস পাওয়ার জন্য?লোকেশন : শনির আখড়া
Posted by Psycho on Tuesday, July 31, 2018