নওগাঁ প্রতিনিধি: আর মাত্র দুদিন পরই কুরবানীর ঈদ। শেষ মহূর্তে দম ফেলার যেন সময় নেই কামারীদের! সরাদিন ও রাতের অর্ধকাল ধরে বিরামহীন কাজ করছেন কামার শিল্পিরা। “টুঙ-টাঙ” শব্দে কামার পল্লী এলাকায় মুখরিত! যখন হাজারও কামার পরিবার হুমকির মুখে, তখন নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার শত শত কামার পরিবার আজ পেশা বদলিয়ে কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ করে অর্ধাহারে ও অনাহারে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। ঠিক সেই দুঃসময়েও কয়েকজন কামারীরা আজ যাঁরা বাপ-দাদার পৈত্রিক পেশা ধরে রেখেছেন।
ছুঁড়ি, দা, হাঁসুয়া, বটি, চাকু, কুড়াল তৈরিতে যাতা টেনে কয়লা পুড়িয়ে আগুন দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি করছেন বিভিন্ন রকমের লোহার পণ্য। আজ এসব দেশীয় অস্ত্র তৈরি হচ্ছে লেদ মেশিনে। এর ফলে কামার শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে চলেছে। তবুও কুরবানীর ঈদ উপলক্ষে কামারীরা আজ যেন ফিরে পেয়েছে ব্যস্ততার সোনালি সময়।
ডিজিটাল যুগে অত্যাধুনিক নিত্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রের বাজারে হারিয়ে যাচ্ছে কামারের হাতে গড়া দেশীয় অস্ত্রের বাজার। রঙ ও চকচকা বাহারী রকমের দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারে ঝুঁকেছেন গ্রাম, শহর ও নগরের মানুষরা। কথা হয় উপজেলা সদর নজিপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড ধামইর রোডের অবস্থিত কামার শিল্পি অনীল কর্মকার (৪২) ও সুকুমার কর্মকারের (৩৬) এর সাথে, উভয়ের পিতার নাম বীরেন কর্মকার। গ্রামের বাড়ি পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপুর পৌর এলাকার বাদপুঁইয়া।
তাঁরা জানান, বাপ-দাদার পৈত্রিক পেশা কামার শিল্প। চামড়ার তৈরি যাতা টেনে কাঠ কয়লা পুড়িয়ে আগুনে গলিয়ে তৈরি লোহার সামগ্রী বিক্রি করে চলত সংসার। উপজেলায় প্রায় ২শ কামার শিল্পে কাজ করত হাজারও কারিগর সংসার চালাতো ২ হাজার পরিবারের। আজ পতœীতলায় ১২/১৪ জন কামার কারিগর পেশাকে আটকে রেখেছে।
তাঁরা আরো জানান, বর্তমানে কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে দিনে ৭শ থেকে সহস্রাধিক টাকা পর্র্যন্ত আয় করছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন। নজিপুর বাসস্ট্যান্ড ধামইরহাট রাস্তার ধারে বসে কামার শিল্পের যাতা টানার কাজ। কোন সংস্থাসহ সরকারের কোন নেই পরিকল্পনা। সরকার তাদের দিকে নজর দিলে শান্তিতে কাটাতে পারতো হাজারও কামার পরিবার। স্বল্প মূল্যে দিয়ে গ্রাম-বাংলার মানুষ ক্রয় করতে পারতো দেশীয় নিত্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র। তাই এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্টপোষকতা জরুরি বলে মত পোষণ করেন, এলাকার কামার শিল্পিরা।