Tuesday, September 15

রোহিঙ্গাদের প্রতি সমর্থনের জন্য কফি আনান স্মরণীয় হয়ে থাকবেন : প্রধানমন্ত্রী

0

জাতিসংঘ (ইউএন) সাবেক মহাসচিব কফি আনানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কফি আনান এর আগে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগে গতকাল শনিবার সকালে হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন।

গতকাল এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিক ও জনগণের প্রতি তার নেতৃত্বাধীন পরামর্শক কমিশনের (অ্যাডভাইজরি কমিশন) প্রতিবেদনে যে সমর্থন প্রদান করা হয়েছে, তাতে কফি আনান সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’ প্রধানমন্ত্রী এমন এক নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, যিনি যে কোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে কখনো পিছপা হননি।
প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তায় কফি আনানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কফি আনান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের ওপর পরামর্শক কমিশনের দুরুহ কাজটি গ্রহণ করেছিলেন।’
তিনি বলেন, কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে কফি আনানের কাজ রোহিঙ্গাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসা এবং টেকসই সমাধানের বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে কফি আনান তাঁর জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে আমাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখার ব্যাপারে তিনি (আনান) সর্বদা যে সমর্থন দিয়ে গেছেন, সে ব্যাপারেও তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি কফি আনানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। ঘানার এই কূটনৈতিক ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্যে বিশ্ববাসী কফি আনানের কথা মনে রাখবে।

আব্দুল হামিদ তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ঘানার এ কূটনীতিক বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। সেখানকার একটি হাসপাতালেই মারা যান তিনি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন কফি আনান। ওই সময়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য ২০০১ সালে জাতিসংঘের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালনের পর কফি আনান জাতিসংঘ-আরব লিগের বিশেষ দূত হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে সংকট নিরসনে যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়েও ফল না আসায় হতাশ হন তিনি।

সবশেষ মিয়ানমার রাখাইনে দমন-পীড়ন চালিয়ে রোহিঙ্গা সংকট তৈরি করলে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চালান কফি আনান। তার নামে গঠিত `আনান কমিশনে’র সুপারিশমালা ব্যাপক প্রশংসা পায় বাংলাদেশসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের তরফ থেকে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.