বাস থেকে নামার সময় ছিটকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, চালকের সহকারী ওই যুবককে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়ায় তিনি ছিটকে পড়েন।
সোমবার (২৭ আগস্ট) বিকেল তিনটার দিকে নগরীর সিটি গেইটের অদূরে মহাসড়কে গ্ল্যাক্সো কারখানার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম আশরাফুজ্জামান রনি (৩০) সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা আকিলপুর গ্রামের অামেরিকা প্রবাসী অলি আহমদের ছেলে। তারা নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
আকবর শাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উৎপল কান্তি বড়ুয়া জানান, সিটি সার্ভিসের একটি বাস থেকে বাসার অদূরে নামার সময় রনি ছিটকে পড়েন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে চিনতে পারেন। এ সময় শ খানেক মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে বাসটি ঘিরে ফেলে।
তারা রনিকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে মহাসড়কে বসে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এর ফাঁকে চালক ও সহকারী বাস ফেলে পালিয়ে যান।
আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক মারা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার লোকজন কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করেছে।
ওসি জসিম আরো বলেন, এলাকাবাসীর দাবী নিহত যুবকে চালকের সহকারী বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। বাসটি আটক করা হলেও এর চালক সহকারী পালিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, নিউ মার্কেট থেকে ভাটিয়ারীর মধ্যে চলাচলকারী ৪ নং বাসে কথাকাটাকাটির জেরে চালকের সহকারী চলন্তবস্থায় যাত্রী আশরাফুজ্জামান রণিকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই চালক সহকারী পালিয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ এলাবাকাসী চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সিটি গেটের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে।
এতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আকবরশাহ থানা পুলিশ গিয়ে গিয়ে বাসচালক ও সহকারীকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
এদিকে বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কে ও আশপাশের সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক উৎপল।