Thursday, September 17

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

0

সরকারি চাকরিতে প্রবেশে নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা পদ্ধতি না রাখার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। আজ বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি থাকছে না।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে কোটা পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তাদের সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠান।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কমিটির রিপোর্ট মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। তিনটি সুপারিশ ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, কোটা বাতিল এবং কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর বিষয়ে যথাপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
মন্ত্রিসভা সচিব কমিটির তিনটি সুপারিশই অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে শফিউল বলেন, যদি কখনও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জন্য কোটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে সরকার তা করতে পারবে।
দু’তিন দিনের মধ্যে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আজ-কালের মধ্যে আমরা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে (প্রজ্ঞাপন) হয়ে যাবে।
গত ১৭ অক্টোবর কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আজ সেটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা পদ্ধতি বহাল আছে। মেধা কোটায় চাকরি হচ্ছে ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ৪৪ জনের।
এটিকে বৈষম্য দাবি করে চাকরি প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে কোটা বাতিলের দাবি করে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সগ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন ‘কোনো কোটাই থাকবে না’। সব নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে।
কোটা পর্যালোচনা কমিটি সূত্র জানায়, তারা ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও ভুটানের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংগ্রহ এবং পর্যালোচনা করে দেখেছে। তবে ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি মিলছে না।
কারণ ওই দেশ দুটিতে বিভিন্ন প্রদেশ রয়েছে। একেক প্রদেশে একেক ধরনের পদ্ধতি বিদ্যমান। তাদেরও কিছু কোটা আছে সংখ্যালঘু শ্রেণির জন্য, তবে তা খুবই নগণ্য।
বাংলাদেশে ওই ধরনের কোনো মাইনরিটি শ্রেণি বা প্রদেশ নেই। দেশে ক্ষুদ্র কিছু নৃগোষ্ঠী থাকলেও তা ওইসব দেশের মতো নয়।

এ ছাড়া শ্রীলংকা ও ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যসহ বেশ কিছু প্রদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৪০ বছর।
এসব তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এযাবৎ প্রশাসন সংস্কারে যেসব কমিশন ও কমিটি গঠন করা হয়েছিল তা সব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে সচিব কমিটি।
প্রতিটি কমিশন ও কমিটিই কোটা থেকে সরে এসে পর্যায়ক্রমে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল।

সূত্র আরও জানায়, সচিব কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রশাসন সংস্কারে মোজাফফর আহমদ চৌধুরী কমিশন, ১৯৭৭ সালে সাবেক সচিব আবদুর রশিদের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন, ১৯৯৪ সালে চার সচিবের নেতৃত্বে গঠিত প্রশাসন পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্ট, ১৯৯৬ সালে জনপ্রশাসন সংস্কারে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকবর আলি খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের রিপোর্টের সুপারিশ আমলে নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় নিয়োগে কিভাবে কোটা সংরক্ষণ করেছে, তাও বিবেচনা করেছে সংস্কার কমিটি। দেশে বিভিন্ন সময় কোটা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদপত্রের কপিও সংগ্রহ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতও নেয়া হয়েছে। এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে কোটা তুলে দেয়ার সুপারিশ করেছে পর্যালোচনা কমিটি।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে।
এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.