চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোড়ারগঞ্জ এলাকায় একটি ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান চালিয়েছে র্যাব। অভিযানের পর সেখান থেকে দুই জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টায় অভিযান শুরু করার পর বেলা সোয়া ১১টার দিকে র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। এরপর তারা বাড়িটির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
ওই সময় র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডর মুফতি মাহমুদ জানান, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ শুরু করেছে। বাড়িটির বাইরে থেকে পরিত্যক্ত একটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িটির তত্ত্বাবধায়কসহ দুজনকে আটক করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে একটি একে-২২ রাইফেল, পাঁচটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড, তিনটি পিস্তল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে অভিযানের শুরুতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রথমে বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। এ সময় র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে বাড়ির ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়। র্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে। রাত ৪টার দিকে বাড়ির ভেতরে বিকট শব্দে তিন-চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে ছাদের একটি বড় অংশ উড়ে ৩০ গজ দূরে পরে। গুলি ও বোমার আঘাতে বাড়িটির জানালার কাচ ভেঙে গেছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর তিনটা থেকে জোরারগঞ্জ থানার চিনকি আস্তানার কাছাকাছি ‘চৌধুরী ম্যানসন’ নামে ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে র্যাব-৭। রাতেই ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলেন র্যাব সদস্যরা। তখন বাড়ির ভেতর থেকে র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় বেশ কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটনা হয়।
সূত্র জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্র জমা না নিয়েই গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাড়িটি ভাড়া দেন জঙ্গিরা। এলকার মানুষ তা জানতেন না। তাদের ধারণ ছিল না এখানে ‘জঙ্গিরা আস্তানা’ গড়ে তোলা হচ্ছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র কমান্ডার বলেন, ‘আমাদের কাছে যে তথ্য ছিল সে হিসেবে ৪ থেকে ৫ জন জঙ্গি সদস্য বাড়ির ভেতরে থাকতে পারে। ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতরে অভিযান শুরু করেছে।
বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারসহ কয়েকজনকে হেফাজতে নেয়ার কথাও জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান।