Saturday, September 12

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়
বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন

0

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ১৪ বছর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

১৪ বছর আগে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীবিরোধী সমাবেশে নৃশংস ওই গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ঢাকার এক নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আজ বুধবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা আলোচিত দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আরো রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কুমিল্লার সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। এ দু’জনই বিদেশে পলাতক।
এ মামলায় ফাঁসির আদেশ হয়েছে মামলার প্রধান আসামি লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টুর। এ দু’জন রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন।

বহুল আলোচিত এ মামলায় ৩৮ জনের ফাঁসি ও যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জনের ফাঁসি ও ১৯ জনের যাবজ্জীবন হয়েছে। এছাড়া আরো ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তারা রায় পর্যালোচনা করবেন।
আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, রায়ে আমরা অসন্তুষ্ট না। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূল তাপস বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে।

এ রায় ঘিরে সকাল থেকেই নাজিমউদ্দিন রোড ও আশপাশের এলাকায় নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে আছেন।
দুই মামলার ৪৯ আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা ৩১ আসামিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয় সকালেই। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচারকাজ চলে।

ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া মঙ্গলবার বলেছিলেন- এ রায় ঘিরে রাজধানীতে কোনো নিরাপত্তা হুমকি তারা দেখছেন না। তার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
সকাল ৮টা থেকে পলাশীর মোড়, বকশিবাজার মোড়, শিক্ষা বোর্ডের সামনে, চকবাজার, মৌলভীবাজার বাজার মোড় ও নয়াবাজার এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাবু লাল সাহা নামে এক পুলিশ পরিদর্শক বলেন, রায় কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা যাতে কেউ না করতে পারে, সে জন্য এ ব্যবস্থা।
এ ঘটনায় পৃথক চারটি মামলা করা হয়। মামলাগুলো একসঙ্গে তদন্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে পৃথক দুটি চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়া হয়। ভয়াবহ সেই ঘটনার ১৪ বছর এক মাস ২০ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ দুটি মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। এ রায় কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অপরাধ জগতের ইতিহাসে গ্রেনেড হামলার ঘটনা একটি জঘন্যতম অপরাধ। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘হালকা নাস্তার (অপরাধীর দেয়া সাংকেতিক নাম)’ নামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২৪ জনকে হত্যা করার অপরাধ কেন্দ্র করে দুটি মামলা হয়। একটি হত্যা ও অন্যটি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলা। জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে দুটি মামলাই তদন্তে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলা অধিকতর তদন্তে যায়।

৫২ আসামির মধ্যে তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামি ৪৯ জন। ওই হামলার অর্থের জোগান ও প্রশাসনিক সহায়তায় ছিল চার-দলীয় জোট তথা বিএনপি-জামায়াত সরকার।

এ দুটি মামলায় একজনকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। রেজাউর রহমান বলেন, সারা দেশের বিচারপ্রার্থী মানুষ এ রায়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আইনের বিধান অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি। ২২৫ সাক্ষীর মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহের ঊর্ধ্বে থেকে প্রমাণে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক দুই আইজিপি- মো. আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হকের আইনজীবী এম নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে মুফতি হান্নানে

Comments are closed.