এখনও অব্যাহত আছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যা। একই সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কোনো আগ্রহ নেই মিয়ানমার সরকারের। এমন বক্তব্য দিয়েছে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান জানান, গত বছরের আগস্ট থেকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে নৃশংস দমন-নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। জীবন বাঁচাতে এখনও বাংলাদেশে ঢুকছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী।
তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে এখনও রোহিঙ্গা নিধন করা হচ্ছে। শারীরিক নির্যাতন ও গণহত্যা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশ এখনো চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ তদন্তকারী ইয়াংহি লি বলেন, তিনি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই আশা করেছিলেন, মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বে দেশটির পরিস্থিতি অতীতের চেয়ে অনেক আলাদা হবে; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আগের মতোই।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কোনও আগ্রহ নেই মিয়ানমার সরকারের, যেখানে দেশটির সব মানুষ সমান অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করবে। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের বিপরীত চিত্রই তুলে ধরছে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের বিষয়ে তেমন একটা অগ্রগতি হয়নি।
সূত্র : ইউএনবি