চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তারা নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অবস্থান করছেন। বেলা তিনটায় চট্টগ্রাম নুর আহমেদ সড়কে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরু হবে। গতকাল শুক্রবার রাত ও আজ শনিবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসে পৌঁছান কেন্দ্রীয় নেতারা।
আজ চট্টগ্রামের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ। এই সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক উৎসহা উদ্দিপনা তৈরী হয়েছে বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে। সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে নহরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল নুর আহমেদ সড়কে আসতে শুরু করেছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরে পৌঁছান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।
এর আগে পৌঁছান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। তার বেলা সাড়ে ১১ টায় শাহ্ আমানতের মাজার জিয়ারত করেন।
এরমধ্যে সমাবেশস্থলে মঞ্চ বানানো শেষ হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এরইমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা সমাবেশ স্থলে এসেছেন। তারা নানান স্লোগানে মুখরিত করে তুলেছে সমাবেশস্থল। সেখানে প্রচুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে মোতায়ান করা হয়েছে।
এর আগে ঐক্যফ্রন্ট লালদীঘি ময়দানে সমাবেশ করার অনুমতি চাইলেও নগরীর নুর আহমেদ সড়কে নগর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সমাবেশের করার অনুমতি দেয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। এজন্য তাদের ২৫টি শর্ত দেয়া হয়।
ঐক্যফ্রন্ট সুত্রে জানাগেছে, গতকাল শুক্রবার রাতভর ৫জন শ্রমিক মঞ্চ তৈরীর কাজ করেন। রাতে নগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত ও সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কয়েকবার সমাবেশ স্থলে এসে মঞ্চ তৈরীর কাজ পরিদর্শন করেন।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ বলেন, ২৫টি শর্তে ঐক্যফ্রন্টকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো মেনে বিকাল তিনটা থেকে পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করবেন বলে নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সমাবেশ ঘিরে যেকোনো নাশকতা রোধে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এদিকে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। ভোর থেকে পুলিশের একাধিক টিম নূরআহমদ সড়ক, কাজীর দেউড়ি এলকায় অবস্থান করছে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো মহসীন জানান, সমাবেশ থেকে যাতে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা করতে না পারে সে জন্যই পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, লালদীঘির মাঠে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ করার জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন লালদীঘি মাঠের পরিবর্তে আমাদের নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পরপরই আমরা সমাবেশ সফল করার প্রস্তুতি শুরু করি। সমাবেশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ড. কামালের নেতৃত্বে নবগঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চট্টগ্রামের সমাবেশটি জোটের দ্বিতীয় সমাবেশ।