Friday, September 11

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা নির্ভর করছে আপিল বিভাগের ওপর

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক কার্যক্রম চালানোর আদেশ বাতিল চেয়ে করা আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানি শেষ হয়েছে।
গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ শেষে আজ সোমবার আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
এ মামলায় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতেও আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ না করেই রায়ের জন্য ২৯ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন আদালত। এদিন রায় ঘোষণা করা হবে কিনা তা নির্ভর করছে সকালে আপিল বিভাগ যে আদেশ দেবেন তার ওপর।
সূত্র মতে, খালেদা জিয়ার আবেদনটি আদেশের জন্য আপিল বিভাগের আজকের (সোমবারের) দৈনন্দিন কার্যতালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই আপিল বিভাগের আদেশ ঘোষণা হতে পারে। অন্যদিকে বিচারিক আদালতে সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার দিকে রায় ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী আপিল বিভাগের আদেশ দেখে নিম্নআদালতে রায় ঘোষণা সম্ভব বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এ বিষয়ে জানান, ‘বিশেষ জজ আদালতে সোমবার রায় ঘোষণা হবে কিনা তা নির্ভর করছে আপিল বিভাগের আদেশের ওপর। আমরা নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে ন্যায়বিচার পাইনি। আশা করছি, আপিল বিভাগে ন্যায়বিচার পাব।’
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘হাইকোর্টেও রায় ওনার বিপক্ষে গেছে। তার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে এ মামলার শুনানি হলো। যদি এ মামলায় নিয়মিত আপিল করার অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে বিচারিক আদালত কর্তৃক মামলার রায় দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে যাবে। যদি খালেদা জিয়ার আবেদনটি আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যায় তবে সোমবার রায় দেওয়া সম্ভব হবে।’
এদিকে গত ৬ অক্টোবর থেকে অসুস্থ খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউতে) ভর্তি আছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে; কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে তাকে আদালতে হাজির করা হবে কিনা সে বিষয়টিও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি।
বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ আল হারুন জানিয়েছেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে বিশেষ আদালতে হাজির করার বিষয়ে রবিবার একটা চিঠি দিয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে আদালতে হাজির করা যাবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্তের জন্য চিঠিটা মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে পাঠাব। বোর্ড যদি মনে করে তাকে আদালতে পাঠানো যাবে, তাহলে পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে চ্যারিটেবল মামলার রায় ঘোষণা করা হবে কিনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘উনি যদি না যেতে চান তাহলে তো কোনো পথ থাকে না। তা ছাড়া আগেই তো বলা হয়েছে ওনার অনুপস্থিতিতে বিচার হবে। বিচারের অর্থ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন, বিচারের অর্থ রায় ঘোষণাও।’
জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে না আসায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে বলে আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এই আদেশ বাতিল চেয়ে রিভিশন আবেদন করলে ১৪ অক্টোবর হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
এর পর ১৬ অক্টোবর বিশেষ জজ আদালত এ মামলায় রায়ের জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ওই দিন আদেশে আদালত বলেন, ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে প্রায় আড়াই বছর মামলাটি যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য আছে। যদিও যুক্তিতর্ক শুনতে হবে, আইনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারপরও আসামিপক্ষ আজও সময়ের আবেদন দিয়েছেন। তাই সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় আমি আসামিপক্ষের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করছি। আগামী ২৯ অক্টোবর মামলায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করলাম।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.