Monday, September 7

সুন্দরগঞ্জের তিস্তার চরাঞ্চলে সবুজের সমাহার

0

মোঃ হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তার ধূ-ধূ বালুচর এখন সবুজের সমারহে ভরে উঠেছে। নানাবিধ ফসলের বাহারে চরাঞ্চলের মাটি যেন সোনায় পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও নদী খনন, শাসন, ড্রেজিং ও সংরক্ষণ না করায় উজান থেকে নেমে আসা পলি জমে অগভীর খর স্রোতী রাক্ষুসি তিস্তা নদী আবাদি জমিতে রুপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের তিস্তার ভাঙনে জমি জিরাত খুঁয়ে যাওয়া পরিবার গুলো যেন তাদের প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তিস্তায় শেষ সম্বল হারিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাওয়া পরিবার গুলো পুনরায় চরে ফিরে এসে বাপ দাদার ভিটায় স্ত্রী পুত্র পরিজন নিয়ে নানাবিধ ফসলের চাষাবাদে মেতে উঠেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন নানা জাতের শাকসবজি, আলু, বেগুন, মরিচ, ছিটা পিয়াচ, আদা, রসুন, সিম, ধনে পাতা, গাজর, কফি, মুলা, লাউ, গম, তিল, তিশি,সরিষা, ভুট্টাসহ বিভিন্ন প্রজাতের ধান চাষ করা হচ্ছে। চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিরে দেখা গেছে বাহারি ফসলের নজর কারা দৃশ্য।
কথা হয় হরিপুর চরের ফরমান আলীর সাথে, তিনি জানান আজ থেকে দশ বছর আগে তার ৫ বিঘা জমি নদীতে বিলিন হয়ে যায়। যার কারনে তিনি বাপ দাদার ভিটা ছেড়ে দিনাজপুরে গিয়ে বসবাস শুরু করে। গত ২ বছর হল তার চরের জমিগুলো আবাদিতে জমিতে পরিনত হয়েছে। সে এখন বাপ দাদার ভিটায় ফিরে এসে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করেছে। তিনি বলেন, গত বছর ২বিঘা জমিতে ছিটা পিয়াচের চাষ করে ২০ হাজার টাকা লাভ করেছে। এ বছর ২ বিঘা জমিতে আলু, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা এবং এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছে। তিনি আশাবাদি চলতি মৌসুমে তিনি সব মিলে ৫০ হতে ৭০ হাজার টাকা লাভ করবে।
সুন্দরগঞ্জ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম জানান, তিস্তার চরাঞ্চলের সবজি এবং তরিতরকারির দাম তুলনামুলকভাবে অন্যান্য আবাদের চেয়ে অনেক কম। যার কারণে স্থানীয়ভাবে মাল ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করলে দ্বিগুন লাভ পাওয়া যায়। তিনি বলেন স্থানীয় তরিতরকারির চাহিদা অনেক বেশি। তবে চরাঞ্চল থেকে মালামাল নিয়ে আসতে পরিশ্রম বেশি হয়।
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, বাজারজাত করণ এবং প্রক্রিয়াজাত করণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা মুনাফা অর্জন করতে পারছে না। তিনি মনে করেন তিস্তার চরাঞ্চলে যেসব ফসল উৎপাদন হয় তাতে করে ২ হতে ৩টি হিমাগার প্রয়োজন। অথচ সুন্দরগঞ্জে একটির বেশি হিমাগার নেই। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন থাকায় চরাঞ্চল হতে চাষিরা উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাশেদুল ইসলাম জানান, তিস্তার চরাঞ্চল এখন আবাদি জমিতে পরিনত হয়েছে। চরাঞ্চলের মাটিতে পলি জমে থাকার কারনে অনেক উর্বর। সে কারনে রাসায়নিক সার ছাড়াই বিভিন্ন ফসলের ফলন ভাল হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে ভুট্টা, গম, আলু, মরিচ, পিয়াচ, রসুন, সরিষা, তিল, তিশিসহ শাকসবজি এবং নানা জাতের দান চাষ বেশি হচ্ছে। কৃষকরা নানাবিধ ফসল চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছে দিনের পর দিন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.