একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। েআজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের বেঞ্চ রিটটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে দেন।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালতের আদেশের পর সাংবাদিকদের মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, তারা এই আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে যাবেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ৯ জানুয়ারি শপথ নিয়েছিলেন। বিএনপিবিহীন ওই সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি। সে অনুযায়ী আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দশম সংসদের মেয়াদ।
মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করে গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন হয়।
নির্বাচনে বিজয়ীরা গত ৩ জানুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এরপর ৭ জানুয়ারি নতুন সরকারও শপথ নেয়।
তার একদিন বাদে গত ৮ জানুয়ারি নতুন এমপিদের শপথ বাতিল করে গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে উকিল নোটিস দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। তার আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন ওই নোটিস পাঠান।
ওই নোটিসের জবাব না পাওয়ায় নতুন সাংসদদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৪ জানুয়ারি এই রিট আবেদন করেন তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ। নতুন এমপিদের শপথ বাতিল করে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয় সেখানে। রিট আবেদনে বলা হয়,সংবিধানের ৭২(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২৯ জানুয়ারি। তাই শপথ নেওয়া নির্বাচিতরা শুধু আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাননি, তারা তাদের সংসদ সদস্য পদটিকেও অকার্যকর করে ফেলেছেন।