Wednesday, September 9

আজ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি

0

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি আজ সোমবার। আজ তাকে বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ঢাকার ৩ নম্বর অস্থায়ী বিশেষ জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে হাজির করা হতে পারে।

৭ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি করেন। শুনানি শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ৫ (২) ধারায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ এর আলোকে চার্জ গঠনের দাবি জানান তিনি।

এর আগে ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হুইলচেয়ারে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন খালেদা জিয়া আদালতে বসা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিচারকের উদ্দেশে বলেছিলেন- আমাকে সাজা দিতে চাইলে দিয়ে দেন, আমি আর এই আদালতে আসব না।
এরও আগে গত ১০ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন একই আদালত।

এদিকে খালেদা জিয়ার আদালতে হাজির হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সবশেষ গত ১৩ মার্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন। এদিন রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এইচ এম রুহুল ইমরানের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল।ওইদিন আসামি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় কাস্টডি পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ।সিনিয়র জেল সুপার স্বাক্ষরিত কাস্টডিতে লেখা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট বন্দী বিজ্ঞ আদালতে যেতে অনিচ্ছুক।’ পরে আদালত মামলার শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার‌্য করেন।

জরুরি অবস্থা জারির সময় করা এই মামলার অভিযোগপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা বাতিল চেয়ে রিট করেছিলেন খালেদা জিয়া। রিটের কারণে প্রায় ৮ বছর নিম্নআদালতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
রিট খারিজ করে উচ্চআদালত ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ৫ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করে জামিন পান খালেদা জিয়া। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার ১৩ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানিকে (গ্যাটকো) পাইয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৩ মে তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক জহিরুল হুদা খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ছয় আসামি মারা গেছেন।

মামলাটিতে বর্তমান অভিযুক্তের সংখ্যা ২০ জন। এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভুইয়া, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, এমকে আনোয়ার, এম শামসুল ইসলাম এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন। সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, প্রাক্তন মন্ত্রী কর্নেল আকবর হোসেনের (প্রয়াত) স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং একেএম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, প্রাক্তন নৌসচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) প্রাক্তন সদস্য একে রশিদ উদ্দিন আহমেদ এবং গ্লোবাল এগ্রোট্রেড প্রাইভেট লিমিটেডের (গ্যাটকো) পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৭ বছর দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকৈ কারাবন্দী।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.