Thursday, September 3

দশম স্কাউট জাম্বুরীতে অর্টিজম ছাত্র-ছাত্রীর যোগদান

0

রাশেদুল আজীজ: সমাজ চলমান, নানাবিধ কর্মকান্ড নিয়ে মানুষ এ সমাজকে চলমান আর চাকচিক্য দিয়েছে। মাঝে মধ্যে সমাজের গতিময়তায় থমকে দাঁড়াতে হয়। আমাদের চারপাশে অল্প বিস্তার অর্টিজম শিশুর বসবাস। কিন্তু যে পরিবারে অথবা যে দম্পতির অর্টিজম শিশু জন্ম লাভ করছে তাকে তারা লুকাতে বা লোকচক্ষুর অন্তরালে নিয়ে যেতে চায়। সমাজ ব্যবস্থার আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভরতা অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে গেছে। তবুও সমাজ একজন অর্টিজম শিশুকে স্বাভাবিক ভাবে নিতে অথবা সকলের সামনে যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করতে পশ্চাৎপদ মানষিকতা ধারন করছে।
এসব অর্টিজম শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। সমাজ ব্যবস্থাকে জানান দিতে পরিবার, দম্পতিকে অর্টিজম শিশুর ব্যাপারে দায়িত্ব ও কর্তব্য কর্ম নিজের চারপাশের রাষ্ট্রের সুন্দর ও স্বাভাবিক ব্যবহার টুকু তুলে ধরে প্রকৌশলী ঝুলুন কুমার দাশ ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের প্রধান ডাঃ বাসনা মুহুরীর একান্ত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে ২০১০ সালের ২২ অক্টোবরে প্রতিষ্ঠা করে নিস্পাপ অর্টিজম স্কুল। প্রকৌশলী ঝুলুন কুমার দাশ সমাজের অর্টিজম শিশুদের নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে ক্ষান্ত নয়, অর্টিজম শিশুদের সমাজের মানুষের মূল ¯্রােত ধারায় নিয়ে আসতে প্রতিদিন, প্রতিমুহুর্ত কাজ ও চিন্তা করেছেন, ছুটে চলছেন।
কথা হচ্ছিল নিস্পাপ অর্টিজম স্কুলের শিক্ষিকা, স্কুলের স্কাউট টিম গঠনে নানা প্রতিকুলতা ও সীমাবদ্দতাকে জয় করেছেন শারাবান তাহুরার সাথে। তিনি জানান, কিভাবে স্কুলে স্কাউট টিম গঠন ও রাষ্ট্রীয়, জেলা, আঞ্চলিক বিভিন্ন কর্মসূচীতে অর্টিজম শিশুদের নিয়ে ছুটে চলছেন।
কিভাবে অর্টিজম স্কুলে চাকুরী করতে এলেন। তাহুরা বলেন, রুটি-রুজির জন্য আমার পথ খোলা ছিলো অনেক। কিন্তু একদিন অবসরে একটি টিভি টকশোতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এর সাক্ষাৎকার দেখে আমার মনে দাগ কাটে অর্টিজম শিশুদের নিয়ে কাজ করতে। আমার স্বামী পুলিশ অফিসারের আগ্রহে নিস্পাপ অর্টিজম স্কুলে যোগ দেয়া।
ছাত্র অবস্থায় নিজে স্কাউট করতাম। চাকুরী জীবন যেহেতু অর্টিজম স্কুলে। নিজের ভাবনা ও প্রকৌশলী ঝুলুন কুমার দাশ ও ডাঃ বাসনা মুহুরীর সার্বিক সহযোগীতায় আমাকে অর্টিজম শিশুদের নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে প্রথম দশম জাম্বরী স্কাউট ক্যাম্পে যেখানে প্রধান অথিতি ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচীতে অর্টিজম শিশুরা স্বাভাবিক ছাত্র-ছাত্রীদের মতো আচরন করে র‌্যালী ও ঘুম থেকে উঠে লাইনে ফ্রেশ হওয়া, শৃঙ্খলার সাথে খাবার গ্রহন করা সহ ইত্যাদি অনুষ্ঠান গুলো পালন করে।
সাইকোলোজি থেকে পাশ করা সারাবান মনে করেন, সমাজ যেন অর্টিজম শিশুদের করুনায় চোখে না দেখে আমাদের চারপাশে যে কারো একজন অর্টিজম শিশু থাকতে পারে। এটা সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত এটা কোন মানুষের কর্মফল নয়। আমাদের সমাজে এখনও অর্টিজম শিশুদের পাগল বলে থাকে। স্কাউটের মতো একটি বিশ্বব্যাপী সংগঠনে চট্টগ্রামের অর্টিজম শিশু দশম জাম্বরী স্কাউট ক্যাম্পে অংশ গ্রহনে করে চট্টগ্রামকে গৌরবের কাতারে দাঁড় করিয়েছে। নিস্পাপ অর্টিজম স্কুলের ক্যাম্পে অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীরা হলো- মোঃ তাশফিক, সুরনীল দাশ রিবো, মোঃ সাদমান, ইশতিয়াক আহমেদ সজিব, আব্দুল করিম, সাজ্জাদ হোসেন, সাইদুল সাহিন ও নীল আকাশ নাগ নীলয়।
নিস্পাপ অর্টিজম স্কুলে ৭জন শিক্ষার্থী স্কাউটের আগামীর সব কর্মসূচী পালন করে বিশ্ববাসীর সামনে জয়গা করে নিবে এ প্রত্যাশা সমাজ হিতৈষী ব্যাক্তি বর্গের।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.