Sunday, September 6

সরকারি সড়কে বাঁধা! মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অবরুদ্ধ!

0

এস এম জহিরুল ইসলাম, গাজীপুর: বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করা সড়ক থাকলেও সেই সড়কে চলাচল করতে পারছে না ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নয়নপুর এলাকার ফরিদপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী মারা গেলেও তার নামে রয়েছে একটি সড়ক। সড়কটির নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সড়ক।

যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। পেয়েছি সবুজ রং এর পতাকার ভেতর লাল রঙের বৃত্ত। লাল সবুজ পতাকা, স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার দীর্ঘদিন সুবিচার পাওয়ার আশায় এ দুয়ার থেকে ও দুয়ারে। ইউপি মেম্বার থেকে চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান থেকে থানা পুলিশ, প্রশাসন। কিন্তু সুফল মেলেনি কোথাও। অসাধু কিছু ব্যক্তির কাছে জিম্মি হয়ে আছে ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।

আদালতে মামলা দায়ের করায় নিত্যদিন হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে এতে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে তারা। চলমান মামলা থাকার পরও সরকারি রেকর্ডকৃত
সড়কে বাঁধা প্রয়োগ করছে ওই এলাকার মৃত আইন উদ্দিন মোল্লার পরিবারের সকল সদস্যরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির মূল ফটকের রাস্তাটি ফাঁকা থাকলেও ৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আফির উদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে সরকারী রেকর্ডকৃত সড়কটি বিভিন্ন গাছের ডালপালা, জংলা, আগাছা ফেলে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ করে দেয়।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর মডেল থানায় মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর ছেলে নূরে আলম সিদ্দিক বাদী হয়ে সোমবার বেলা ১১টায় সাত জনকে অভিযুক্ত করে একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছে।
অভিযুক্তরা হলো উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের
মৃত আইন উদ্দিন মোল্লার ছেলে আফির উদ্দিন মোল্লা (৫০), তাইজ উদ্দিন মোল্লা (৪২), ফাইজ উদ্দিন মোল্লা (৩৫), তাইজ উদ্দিন মোল্লার স্ত্রী সাবিনা আক্তার (৩৮), আফির উদ্দিন মোল্লার স্ত্রী রাশিদা বেগম (৪৫), ফাইজ উদ্দিন মোল্লার স্ত্রী রাণী বেগম (২৮), তাইজ উদ্দিন মোল্লার মেয়ে তমা (২০)।

মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর ছেলে নূরে আলম সিদ্দিক জানান, ফরিদপুর-মুলাইদ গ্রামের সংযোগ সড়কটি আমার বাবার নামে নামকরণ করা হয়। প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেরোলেই আমার বাড়ি। সড়কটির পাশে আফির উদ্দিন মোল্লার জমি থাকায় সে অন্যায় ভাবে দখল করে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে আমার প্রবেশ করার মূল ফটকে বাঁধা দিয়ে সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে এতে আমার পরিবার ও আমি অবরুদ্ধ।

তিনি আরও জানান, সরকরি এস.এ /আর. এস নকশায় ২০ ফিট প্রস্থ হয়ে বিদ্যমান। আফির উদ্দিন মোল্লা ওই রাস্তাটি দখল করে বন্ধ করার পায়তারা করলে আমি বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালত গাজীপুর পি:মো:নং২০৬/১৯মামলা দায়ের করি। মামলা দায়ের করার পর শ্রীপুর থানা পুলিশ কর্তৃক নোটিশ প্রধান করা হয়। আফির মোল্লা ওই নোটিশ অমান্য করে পিলার উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা আকতার বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য
স্থানীয় মুরুব্বীদের নিয়ে আফির মোল্লাকে বলা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার চলাচলের জন্য ৪ফিটের একটি রাস্তা দেওয়ার জন্য। কিন্তু আফির মোল্লা নির্দেশ অমান্য করে ওই চার ফিট রাস্তাটাও বন্ধ করে দেয়। তাই আমি আমার প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য লিখে জমা দিয়েছি।

অভিযুক্ত আফির উদ্দিন মোল্লা বলেন, নূরে আলম সিদ্দিক এ ব্যাপারে আদালতে মামলা করেছে। সরকারি সড়কের মীমাংসা আদালতে হবে। গ্রাম্য সালিশে ইউপি চেয়ারম্যান মীমাংসা করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা চেয়ারম্যানের বিচার সালিশ মানি না।

গত ২০০৮ সালেও জমি সংক্রান্ত বিরোধে বীর মুক্তিযোদ্ধো রহমত আলীকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছিল উক্ত অভিযুক্তরা।
উল্লেখিত জমির তফসিল নং:জেলা- গাজীপুর, শ্রীপুর অধীন ০৪ নং ধনুয়া মৌজাস্থিত এস.এ- ১৫৬ নং খতিয়ানে এস.এ- ১৯৬০,এবং ১৯৫৪ মাঝখান দিয়ে ২০ ফিট প্রস্থ সড়কটি এস,এ এবং আর.এস নকশায় সড়কটি অবস্থিত।যাহার আর.এস খতিয়ান নং-৭২১ এবং দান নং- ৭৬২৪, এবং ৩৭, ৩৮ রাস্তার আর.এস দাগ নং-৭৬২৬।

উল্লেখিত বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য থানায় আফির মোল্লাকে একাধিকবার ডাকা হয়েছে। কিন্তু আফির মোল্লা থানায় আসার কথা বললেও উপস্থিত হয়নি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.