সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজধানীর সড়ক আজও ফাঁকা। বাস নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরশেনের (বিআরটিসি) কয়েকটি বাস যাও চলছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে অফিসগামী মানুষের।
রাস্তায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে নিরাপত্তাহীনতায় বাস মালিকরা গণপরিবহন বন্ধ রেখেছেন বলে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বলেন, বাস মালিকরা রাস্তায় গাড়ি চালানো নিরাপদ মনে করছেন না। গত রোববার থেকে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনে চারশ’র বেশি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। এতে মালিকরা রাস্তায় গাড়ি নামাতে ভয় পাচ্ছেন। তারা গাড়ি চালানো নিরাপদ মনে করছেন না।
তিনি আরো বলেন, বাস মালিক বা শ্রমিক কাউকে গাড়ি বন্ধ করতে বলিনি। মালিকরাই নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাড়ি চালাচ্ছেন না। কোনো ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বাস মালিকরাও একমত।
আজ সকালে রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, মতিঝিল, মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, মানিক মিয়া এভিনিউ, প্রগতি সরণি, অ্যালিফ্যান্ট রোড ঘুরে হাতে গোনা দু’ একটি লক্কর ঝক্কর গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি।
অফিসগামী ও বিভিন্ন গন্তব্যগামী শত শত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন বা হাঁটছেন। রাইড শেয়ারিং যান, রিকশা বা অটোরিকশা, বিআরটিসির বাসে বা যেভাবেই হোক, গন্তব্যে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন তারা।
বেলা ১০ টার দিকে ফার্মগেট মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাদিকুর রহমান নামে একজন জানান, তিনি উত্তরায় একটি বাইং হাউসে চাকরি করেন। দেড় ঘন্টা ধরে সড়কে অপেক্ষা করছেন কোনো গণপরিবহন পাননি। বিআরটিসির একটি গাড়ি ছিল কিন্তু তাতে এতো ভিড় যে উঠতে পারেন নি। উপায়ন্তর হয়ে শাহবাগ থেকে হেটে হেটে ফার্মগেট এসে পৌছেছেন।
বনানীতে দাঁড়িয়ে থাকা শবনম ফারিয়া জানান, তার অফিস মতিঝিলে। এক ঘন্টা হলো অপেক্ষা করছেন কিন্তু কোনো বাসের দেখা পান নি। সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাড়া করেছেন। বনানী থেকে মতিঝিল যেতে দিতে হবে ৪০০ টাকা।
সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চলাচল করছে। সেগুলোও অনেক কম। উবার, পাঠাওসহ রাইট শেয়ারিং পরিবহণ গুলো আছে। কিন্তু সেগুলোতেও ভাড়া বেশি। বাড়তি ভাড়া গুণে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে লোকজনকে।
গত রোববার (২৯ জুলাই) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে রাস্তায় শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে পড়ে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস।এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মীম (১৬)। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার ও নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ডাকা ধর্মঘট আজও চলছে।