Tuesday, August 18

আদিতমারীতে ট্যেকনোলজিষ্টের অভাবে করোনার নমুনা সংগ্রহে জঠিলতা

0

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ল্যাব ট্যেকনোলজিষ্টের অভাবে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে জঠিলতা দেখা দিয়েছে। প্রথম ব্যাক্তি করোনা শনাক্তের ৩দিনেও তার পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।

জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মানুষের নাগরিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলে। পরবর্তিতে নবম জাতীয় সংসদ কালিন সময় এ হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবলসহ সেবার মানের উন্নতি ঘটেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রায় সময় চিকিৎসক সংকটে থাকে হাসপাতালটি। প্রতিবছর নতুন নিয়োগের সময় চিকিৎসক ভরে গেলেও তা আস্তে আস্তে বদলী আর প্রেষনে চলে যাওয়ায় চিকিৎসক সংকটে ভোগে হাসপাতালটি। বর্তমানে চলার মত চিকিৎসক থাকলেও নেই ল্যাব ট্যেকনোলজিষ্ট।

হাসপাতালের ট্যেকনোলজিষ্ট পদটি দীর্ঘ দিন ধরে শুন্য থাকায় ল্যাবটি তালাবদ্ধ ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে ডা. মেশকাতুল আবেদ হাসপাতালের এ চিত্র দেখে ট্যেকনোলজিষ্ট চেয়ে একাধিক আবেদন করেন। কিন্তু সরকারী ভাবে না পাওয়ায় স্থানীয়দের সহায়তায় উম্মে মমেনীন চৌধুরী শিমুল নামে স্থানীয় একজন ট্যেকনোলজিষ্টকে বিনা বেতনে চুক্তিভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ল্যাব চালু করেন। কয়েক মাস পরে ডা. মেশকাতুল আবেদ বদলী নিয়ে চলে যাওয়া আবারো ভোগান্তিতে পড়েন কর্তৃপক্ষ। এরই মাঝে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সংকট বেড়ে যায়।

করোনা ভাইরাস শনাক্তে নমুনা সংগ্রহ করার কাজটি করেন ল্যাব ট্যেকনোলজিষ্ট। আর এ উপজেলায় সেই গুরুত্বপুর্ন পদটি শুন্য। স্থানীয় ভাবে নিয়োগ পাওয়া উম্মে মমেনীন শিমুলকে দিয়ে কয়েকদিন নমুনা সংগ্রহ করা হলেও সাম্প্রতি সময় এ উপজেলায় একজন শনাক্ত হওয়াতে ঝুঁকিভাতা ও চুড়ান্ত নিয়োগ ছাড়া বেসরকারী সেই ট্যেকনোলজিষ্ট কাজে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে দাবি করেছেন করোনা মনিটরিং টিমের সদস্য উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মাহবুব আলম।

মঙ্গলবার(২৮ এপ্রিল) এ উপজেলায় প্রথম শনাক্ত করোনা রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসলোশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে ৬টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলেও ট্যেকনোলজিষ্ট না থাকায় গত তিন দিনেও ওই রোগীর পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এতেই শেষ নয়। নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে পৃথক একটি এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলেও এ উপজেলায় তা নেই। ফলে সদর হাসপাতালের করোনা এ্যাম্বুলেন্সটি এ উপজেলায় অতিরিক্ত সেবা প্রদান করছেন। এক্ষেত্রে সদর উপজেলার চাহিদা পুরন করার পরে এ উপজেলায় সেবা প্রদান করে এ্যাম্বুলেন্সটি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা। বিশেষ করে করোনা সংক্রামন রোধ বা করোনা সেবা প্রদান মুখ থুবড়ে পড়েছে এ উপজেলায়। ফলে করোনা যুদ্ধে সাহসের পরিবর্তে এ উপজেলাবাসীর বাড়ছে আতংক। সংক্রমন শুরু হলে ভয়াবহ রুপ নিতে পারে বলে আশংকা স্থানীয়দের।

স্বেচ্ছাসেবী ট্যেকনোলজিষ্ট উম্মে মমেনীন চৌধুরী শিমুল বলেন, পড়া লেখা শেষ করে ট্যেকনোলজিষ্ট হিসেবে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলাম। তাই অবসর সময়ে স্থানীয় হাসপাতালে ট্যেকনোলজিষ্টের অভাবে ল্যাব বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সেবা দিতে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়েছি। করোনা প্রাদুর্ভাবে সরকারী নিয়োগ প্রাপ্তরা ঝুঁকিভাতা থাকার পরেও কাজে যেতে অনীহা করছেন। আমি বিনা ভাতায় ঝুঁকি নিচ্ছি। আমার সংগ্রহের নমুনায় একজন শনাক্ত হওয়ায় আমার পরিবার আমাকে স্বেচ্ছাশ্রমে যেতে নিষেধ করেছেন। তবে সরকারী ভাবে ঝুঁকি ভাতা বা সম্মানির ঘোষনা দিলে কাজে ফিরবেন বলেও জানান তিনি।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর আরেফিন প্রধান বলেন, ভোলান্টিয়ার ট্যেকনোলজিষ্ট দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। তাই শুন্য পদের বিষয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে কিছু বলা হয়নি। তবে শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন হলেও সিভিল সার্জনের নিষেধাজ্ঞায় করা হয়নি। লক্ষণ প্রকাশ পেলেই নমুনা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, ট্যেকনোলজিষ্টরাই নমুনা সংগ্রহ করেন। এ হাসপাতালে ট্যেকনোলজিষ্ট শুন্যের বিষয়টি জানা নেই। খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আতংকের কিছু নেই। করোনার লক্ষণ দেখা দিলেই তার নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ইতিপুর্বে শনাক্ত হওয়া জেলার ৩ রোগী সুস্থ্য রয়েছেন। দুই/এক দিনের মধ্যে প্রথমের দুইজনকে ছাড়পত্র দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.