Sunday, November 8

আমতলীতে মৎস্য কর্মকর্তা ও কোষ্ট গার্ডের নাকের ডগায় চলছে জাটকা নিধনের মহোৎসব

0

কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম,বরগুনাঃ সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমতলীতে মৎস্য কর্মাকর্তা ও কোষ্ট গার্ডের নাকের ডগায় অবাধে জাটকা নিধন ও বিক্রির মহোৎসব চলছে। উপজেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চলের হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে ঝাটকা ইলিশ।

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ, আমরা মাছে ভাতে বাঙ্গালী। এছাড়াও ইলিশ বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সরকার কঠোর আইন করেছে। প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা নিধন,পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়ের উপর সম্পূর্নভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। উলে¬খ্য, মৎস্য গবেষনায় উলে¬খ করা হয়েছে, মা ইলিশ সাধারনত যে স্থানে ডিম ছাড়ে ঠিক ওই স্থানে একটানা ৬-৭ মাস অবস্থান করে।

এ সময়ে ছোট একটি বাচ্চা ইলিশ ১০ইঞ্চি লম্বা পর্যন্ত পূর্ণতা পায়। এর পর সেখান থেকে গভীর সাগরে চলে যায়। যার ফলে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি লম্বা পর্যন্ত ইলিশ ধরা সম্পূর্ন নিষেধ। দেশের মৎস্য সম্পদকে রক্ষা কল্পে এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। এ ছাড়াও মৎস্য সম্পদ ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছর ঠিক এ সময়টা সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্ততিমূলক ও সচেতন মূলক কার্যক্রম শুরু হয়। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং তাদের পূর্নবাসনের জন্য আর্থিক সাহায্য সহ চাল বিতরন করা হয়। এর পরেও যদি কোন ব্যাক্তি সরকারী নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে জাটকা নিধন, পরিবহন অথবা ক্রয়-বিক্রয় করে তার বিরুদ্ধে জেল জরিমানা সহ উভয় দন্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন পাশ কারা হয়েছে।

স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে জেলেরা বলেন, নদীতে অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলেদের জন্য সরকারী ভাবে যেটুকু বরাদ্দ আসে তা চেয়ারম্যান-মেম্বাররা নিজেদের লোকজনের মধ্যে ভাগভাটোরা করে দেন। এতে করে প্রকৃত জেলেরা সরকারী সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকারে যান।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ও অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলেদের দিয়ে নদীতে মাছ শিকার করাচ্ছেন। এতে করে ব্যার্থ হচ্ছে সরকারের জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। এ অবস্থা চলতে থাকলে ইলিশ উৎপাদ ব্যহত হওয়ার আশঙ্ক করছেন তারা।

ইলিশ রক্ষায় আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই যেন আমতলীসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। ছোট বড় অসংখ্য নৌকা, ট্রলার ও ফিসিং বোর্ড দিয়ে দেদারছে নিধন করছে জাটকা ইলিশ। এসব দেখেও যেন না দেখার ভান করে ঢিলে ঢালাভাবে চলছে আমতলী ও তালতলী মৎস্য অফিস । প্রতিদিন আমতলী ও তালতলীর বিভিন্ন এলাকাগুলোতে নৌ ও সড়ক পথ দিয়ে জাটকার ছোট বড় অসংখ্য চালান পাচার হচ্ছে। সড়ক পথে জাটকা পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে পটুয়াখালীর টোল প¬াজা, লেবুখালী ফেরিঘাট ,আমতলী ফেরিঘাট,পচাকোড়ালিয়া ¯øুইজগেট,বগী বাজার, শাখারিয়া স্টান্ড, যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে বড় বড় ট্রাক, মিনিবাস, টেম্পু ও ভ্যান। এমনকি বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো।

তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম রেজা বলেন, “আমি একটি প্রশিক্ষণের জন্য তালতলীতে ছিলাম না। গতকাল এসে জাটকা নিধনের বিষয়টি অবগত হই এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলাপ হয়েছে, যে কোন মুহুর্তে অভিযান শুরু করব।”

আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবীন্দ্র নাথ মন্ডল বলেন, “আমি আজ আমতলী পৌর শহরের দুইটি বাজার পরিদর্শন করে বাজার সমিতির সভাপতির সাথে কথা বলেছি তারা বাজারে আর জাটকা বিক্রি করবে না। আমরা অনতিবিলম্বে নদীতে ও বিভিন্ন গ্রামের বাজারে মোবাইল কোর্ট নিয়ে অভিযান পরিচালনা করব।”

তালতলী ফকিরহাট কোস্টগার্ড কন্টিজেন্স কমান্ডার মর্তুজা আলী জানান, কোস্টগার্ডের টহল নিয়মিত অব্যাহত আছে এবং এ অভিযান চলবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.