ক্ষমতার বৃত্তে ঘুরে বেড়ানো থেকে একেবারে বন্দি জীবন। বিলাসবহুল জীবন থেকে সরাসরি কারাগারের কুঠুরিতে বন্দি। কয়েক দিনে জীবনটাই ওলটপালট হয়ে গিয়েছে ডেরা সাচ্চা সওদার প্রধান গুরমিত রাম রহিমের। কারাগারে আসার পর থেকে টানা কেঁদেই চলেছেন তিনি। শুধু কান্নাকাটি নয়, খাবারের একটা দানাও দাঁতে কাটেননি তিনি। খাবার বলতে কয়েক চুমুক দুধ আর বেশ কয়েক ঢোক পানি।
সাজা ঘোষণার পর থেকে কারও সঙ্গে কোনও কথাও বলছেন না ‘বাবা’। কোনও হম্বিতম্বি করতেও দেখা যায়নি। কারাগারের ভেতরে ঢোকার পর থেকে সাজা ঘোষণা— যা বলার তা ওই আদালতেই বলেছেন, ‘ম্যায় বেগুনাহ হু। মুঝে মাফ কর দো।’
রোহতকের ওই কারাগার থেকে সদ্য জামিনে মুক্তি পাওয়া এক বন্দি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকেই রাম রহিমকে বড্ড মন মরা দেখাচ্ছিল। কারও সঙ্গে কোনও কথাই বলেননি। তার কথায়, ‘খাবার বলতে শুধু দুধ আর পানি খেয়েছেন। আর কিছু না। ওকে কারও সঙ্গে কথাও বলতে দেখিনি।’
গত ২৫ বছর ধরে রাম রহিম ডেরা সাচ্চার প্রধান ধর্মগুরু। এত বছরে ‘বাবা’ ছাড়া কোনও ডাকই তিনি শোনেননি। কিন্তু সাজা ঘোষণার পর থেকে তিনি একটি ‘সংখ্যা’য় পরিণত হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে দু’টি ধর্ষণের মামলায় সব মিলিয়ে তার ২০ বছরের জেলের সাজা ঘোষণা হয়েছে সোমবার।
তারপর থেকে জেলের খাতায় তার নামের পাশে লেখা— কয়েদি নম্বর ১৯৯৭। জেলের ভিতরে কর্মীদের আলোচনাতেও নাকি ‘বাবা’কে ‘সংখ্যা’ ধরেই ডাকা হচ্ছে।
অনেকেই মনে করছেন, বিলাসী জীবন থেকে জেল কুঠুরিতে একাকীত্বের জীবন মেনে নিতে পারছেন না রাম রহিম। তাদের মতে, সনাতন ভারত থেকে এ কালের ভারত, রাম রহিম স্রেফ আরও একটি নাম মাত্র। কারণ, অতীতে তার মতো এমন উদাহরণ আরও রয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা