এমদাদুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পরিবহন ব্যবস্থা ও শাটল ট্রেনের বিভিন্ন সমস্যা নিরসন ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও শাটলে শিক্ষার্থীর দুই পা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শোক করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (০৯ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত করে এবং আহতের চিকিৎসা ব্যয়ভার ও বিশ্ববিদ্যালয় তার চাকরি নিশ্চিত করার দাবি জানায় । পরে তারা একটি মিছিল বের করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে সমাবেশটি শেষ করে
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রবিউল ক্যাম্পাসে এসেছিল দুই পা’য়ে দাঁড়াতে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু তার পাই কাটা পড়লো। ট্রেনে শুধু তার পা কাটা পড়েনি, পড়েছে একটি পরিবারের স্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে রবিউলের পুর্ণবাসের দ্বায়িত্ব নিতে হবে। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার সংকট নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি কখনোই কানে নেয়নি। যদি তারা পরিবহন সংকটের বিষয়টি সমাধান করতো তবে, রবিউলের এমন অবস্থা হতো না।
এসময় বক্তারা প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রশাসন কি উদরপূর্তি করার জন্যই প্রতিবছর বিশাল অংকের বাজেট পাশ করে? হলের খাবারের নূন্যতম কোন মান নেই, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। এসবসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সমস্যা সমাধানের ৪ টি দফা তুলে ধরেন।
দফা গুলো হলো :
১.বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহত শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা ব্যয়ভার বহন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।
২.শাটল ট্রেনে বগি বৃদ্ধি করতে হবে,শহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত ডাবল লাইন চালু করতে হবে এবং মালবাহী বগি প্রত্যাহার করতে হবে।
৩.বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত শিক্ষার্থী বাস এবং ক্যাম্পাসে অভ্যন্তরীণ শিক্ষার্থী বাস চালু করতে হবে
৪.শাটল ট্রেনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে আজ ৯ তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ মিনিটে নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনে ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে পৃথক ভাবে আরেকটি মানববন্ধন করে চবি শিক্ষার্থী
এই দাবিগুলোর দফা গুলো ছিলো নিম্নরূপ :
১. শাটলের বগি বৃদ্ধি ও সংস্কার।
২. রেললাইন সংস্কার ও ডাবল লাইন চালু করা।
৩. বটতলি স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রত্যেক স্টেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করা ও জনবল নিয়োগ
করা।
৪.বহিরাগতদের শাটলে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা।
৫. রবিউলের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা এবং পরিবার কে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়া।
৬. রেলস্টেশন সমূহকে আধুনিকায়ন করা।
৭. এক নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা।
প্রসঙ্গত, গতকাল শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল আলম।
প্রসঙ্গত, গতকাল ৮ তারিখ রোজ বুধবার শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৩-১৪ বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল আলম।
তার সহপাঠীরা জানায়, গতকাল ৮ তারিখ বুধবার সকাল ৮:৩০ টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনে উঠার সময় রবিউল পা পিছলে পড়ে যায়। সাথে সাথে ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে তার দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে শিক্ষার্থীরা রবিউলকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে রবিউলকে তখন ভর্তি করানো হয়। পরে আহত রবিউলকে দেখতে গেলেন চবি উপ-উপাচার্য ডঃ শিরিণ আখতার চৌধুরী এসময় তাকে চিকিৎসার ব্যয়ভার নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জানা গেছে আহত রবিউল আলমের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফের হুয়াইরাং গ্রামে।