জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সোমবার বহু আলোচিত ওই বিলে সই করেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর কোনো বিল আইন হিসেবে গণ্য হয়। এখন এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করবে সরকার।
এর আগে গত বুধবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংক্রান্ত নথি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দফতরে পাঠানো হয়।
এর আগের দিন মঙ্গলবার এ বিল সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বিভিন্ন মহলের আপত্তির মধ্যেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে পাস হয় বহুলালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল। এটিসহ ওই অধিবেশনে মোট ১৮টি বিল পাস হয়।
আইনের আটটি ধারার বিষয়ে সম্পাদক পরিষদের ঘোর আপত্তি রয়েছে। তাঁরা এই আপত্তির বিষয়টি আইনমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন।
এই আইনের ৩২ ধারায় অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট প্রয়োগ করে সরকারি কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যকে (‘তথ্য পাচারের’) অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অপরাধ সংঘটন ও সংঘটনে সহায়তার দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি কেউ একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকার অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের পর সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতিতে বলে, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ এই প্রতিবেদনে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। বিলটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি।
তবে এই আইন গণমাধ্যমে সুরক্ষা দেবে এবং সঠিক সাংবাদিকতার সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে যারা অপরাধ করবে না তাদের জন্য এই আইন ক্ষতিকর নয় বলে জানানো হয়েছে।
৩ অক্টোবর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধী মন না হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।