Monday, August 17

তালতলীতে প্রভাবশালীদের চাঁদা না দেওয়ায় ঘর ছাড়া এক পরিবার

0

কে এম রিয়াজুল ইসলাম,বরগুনাঃ বরগুনার তালতলীতে জমি ক্রয় করে স্থানীয় নেতাদের চাঁদা দিতে অস্বীকার করা একটি পরিবারকে ঘর ছাড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার(৬মে) তালতলী সাংবাদিক ফোরামে সংবাদসম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পারিবারটি।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের আলীবন্দর এলাকার মৃত মফেজ উদ্দিনের পুত্র আঃ হক একই এলাকার মজিবর শেখ ও তার স্ত্রী ছফেলা বেগমকে ৬৩ শতাংশ জমি চলতি বছরের ১০ ফেব্রয়ারী দলিল দেয়। এই জমি দলিলের সময় সনাক্তকারী হিসেবে আঃ হক ছেলে সজল দলিলে স্বাক্ষর করেন। জমি ক্রয়ের পরে জমির দখল হিসেবে নেয় ক্রয় সূত্রের মালিক মজিবর শেখ ও তার স্ত্রী। কিছু দিন যেতে না যেতেই আঃ হক কে ভুল বুঝিয়ে ইউনুচ রাড়ী ও রহিম শেখ সহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল মজিবর শেখ ও তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে তারা। এতে করে পরিবারের লোকজন দিয়ে তিনি পথে পথে হাটছেন। পরে প্রভাবশালী ইউনুচ রাড়ী,রহিম শেখ,জয়নাল শেখ ভুক্তভোগি মজিবর শেখের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চায়। ঐ চাঁদার টাকা দিতে পারলে বাড়ি উঠতে দেওয়া হবে। নয়তো বাড়ি উঠতে দেওয়া হবে না বলে জানান। এদিকে ঐ জমির মালিক কে ভিক্ষুক সাজিয়ে বিভিন্ন অনলাইন টিভি ও র্পোটালে নিউজ প্রকাশিত হয়। যা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন ভুক্তভোগি পরিবারটি।

শাহজাহান,চাম্পা,ময়নাসহ একাধীক স্থানীয়রা বলেন আঃ হক মিয়া তার ভিটে মাটিসহ ৬৩ শতাংশ জমি মজিবর শেখ ও তার স্ত্রীর কাছে বিক্রী করে গেছে। কিন্তু ঘরটি বিক্রী করেনি। ঘর নেওয়ার সময় চেয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়ে গেছে হক মিয়াসহ তার পরিবাররা। কিন্তু ২ মাস পরে কিছু দিন আগে স্থানীয় ইউনুচ রাড়ী ও রহিম শেখ মজিবরকে ঐ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এদিকে আঃ হক একটু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তাই তাকে দিয়ে স্থানীয় মহল স্বার্থ হাসিলের জন্য তাকে ভিক্ষুক সাজিয়ে একটা নাটক তৈরি করছে। তারা আরও বলেন এক ব্যক্তির যদি ৬৩ শতাংশ জমি থাকে তা হলে সে ভিক্ষুক হয় কি করে।
মজিবর শেখ কান্না কন্ঠে বলেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল কে চাঁদা টাকা না দেওয়াতে আমাকে ক্রয়কৃত জমি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমি এখন পথে পথে ঘুড়ছি। জীবনের শেষ সম্ভলটুকু দিয়ে এই জমি ক্রয় করি। কিন্তু আজ সেই জমি থেকে আজ জোরদখল করছে তারা প্রভাবশালী মহলের ইউনুচ রাড়ী,রহিম শেখ,জয়নাল শেখ। আঃ হক আগে ভিক্ষাবৃত্তি করতো তবে এখন সে স্বাবলম্বী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী মহল আঃ হক কে দিয়ে অপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই প্রাশাসনের কাছে।
এই সংবাদ সম্মেলনে নিউজ যাতে প্রকাশ না করি এ জন্য প্রতিবেদককে বিভিন্ন মহল থেকে ফোন করে অনুরোধ করেন সেই সকল প্রভাবশালীরা পক্ষে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া বলেন এবিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্ব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.