Friday, August 28

নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে ভোক্তাদেরকে পণ্য ও সেবার মান সম্পর্কে জিজ্ঞাসু হতে হবে

0

খাদ্যে ভেজাল, অপরিস্কার, অপরিছন্ন পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশন ও বাজারজাতকরণ, ভোক্তা হিসাবে পণ্য ক্রয় ও সেবা ব্যবহারে ভোক্তা হিসাবে প্রতিনিয়তই জনগন ভোগান্তির শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, অনেকেই এটাকে নিয়তির নিয়ম হিসাবে মেনে নিচ্ছেন। আবার অনেকেই জানে না, ভোক্তা হিসাবে প্রতারিত হলে আইনী প্রতিকার পাওয়া যায়। অন্যদিকে “বাঁচতে হলে জানতে হবে”, শ্লোগানের মতো জেনে শুনে যাচাই করে খাদ্য, পণ্য ও সেবা গ্রহন করতে হবে। না হলে প্রতারিত হবার সম্ভাবনাই বেশী। দেশীয় ক্রেতা-ভোক্তারা অসচেতন ও নিস্কৃয় থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীর সংখ্যা যেরকম বাড়ছে তেমনি খাদ্যে ভেজাল, পণ্য ও সেবা প্রদানে ফটকা ব্যবসায়ীর অপতৎরতা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ভোক্তারা ব্যবসায়ীদের পণ্য ও সেবা ব্যবহার করলে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। কিন্তু দেশে তা না হয়ে ব্যবসায়ীদের করুনার উপর ভোক্তাদেরকে নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক জায়গায়। কারন তারাই জনগনকে জিম্মি করে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন। খাদ্য ও পণ্য ব্যবসায়ীদের তৎপরতা এতটাই প্রসার ঘটেছে যেখানে শিক্ষার্থীদের টিফিনেও সা¤্রাজ্যবাদী ব্যবসার থাবা পড়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন আর মায়ের দেয়া টিফিন খেতে আগ্রহী নয়, তারা বাজারের হোটেল ও দোকান থেকে জাঙ্ক ফুড টিফিন হিসাবে খেতে অভ্যস্ত। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে তরুন সমাজকে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার বিষয়ে সচেতন ও সোচ্চার করতে হবে। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং চান্দগাও সিডিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন নিয়ে প্রচারণা কর্মসূচিতে বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের আয়োজনে ও ক্যাব ডিপিও জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রচারণা কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সিডিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নরুল আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ০৪ নং চান্দগাও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান। মাল্টিমিডিয়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তরের সহকারী পরিচালক নাসরিন আকতার ও পাঁচলাইশ থানা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ জাকিয়া খাতুন। আলোচনায় অংশনেন ক্যাব মহানগরের সদস্য সেলিম সাজ্জাদ, ক্যাব পাঁচলাইশের যুগ্ন সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর। ক্যাব কর্মকর্তা তাজমুন নাহার, শম্পা কে নাহার ও জেড এইচ শিহাব প্রমুখ।

বক্তারা আরও বলেন ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও নিরবেই অনেকে প্রতিকারের জন্য আইনী সহায়তা নিতে আগ্রহী না হয়ে নিস্কৃয় থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে আইনী দীর্ঘসুত্রিতা ও জঠিলতার কারনে জনগন ক্ষতিগ্রস্থ ও হয়রানির শিকার হলেও সরকারি অফিস বা আদালতের দ্বারস্থ হতে আগ্রহী নয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না ভোক্তা হিসাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও ভোগান্তির শিকার হলে একজন ভুক্তভোগী ক্ষতিপুরন ও প্রতারিত হলে সরাসরি অতি সহজে বিনা কোর্ট ফিঃ ও অ্যাডভোকেট নিযুক্তি ছাড়াই মোবাইল, ফেসবুক, ইন্টারনেট, চিটির মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ আইনে অভিযোগ দাখিল করে ক্ষতিপুরন দাবি করতে পারেন। আর অভিযোগ প্রমানিত হলে জরিমানারও পঁচিশ শতাংশ অভিযোগকারী পাবেন। কিন্তু সাধারন জনগন ও ভোক্তারা এ বিষয়ে পরিস্কার ধারনা না থাকায় ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ থেকে তেমন সুবিধা পাচ্ছে না। তাই ভোক্তাদের বিশেষ করে ছাত্র ও তরুনদেরকে এই যুগান্তকারী আইন জানানোর জন্য ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্ঠি করতে হবে। আর খাদ্যে ভেজাল মানুষ হত্যার চেয়ে জঘন্য। কারন একজনকে খুন করলে সংগে সংগে মরবে কিন্তু খাদ্য ও ওষুধে ভেজালের কারনে মানুষ ধুকে ধুকে মরতে হচ্ছে। যা মানুষ খুনের চেয়েও ভয়াবহ।

সভায় বলা হয় খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ, জাঙ্ক ফুড গ্রহন, পঁচা বাসি খাবার বিক্রি, খাবারের দোকানে পত্রিকার কাগজের ব্যবহার, ফ্রিজে মাছ, মাংশ, তরকারী একসংগে সংরক্ষন, ওজনে কম দেয়া, প্যাকেটের গায়ে লেখা মুল্যের চেয়ে বেশী নেয়া, দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদোত্তীর্ন খাদ্য, ওষুধ, পণ্য বিক্রি, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বেশী মূল্য নেয়া, গণপরিবহনে বেশী ভাড়া নেয়াসহ ভোক্তার স্বার্থের সাথে জড়িত যে অনিয়মের প্রতিকার করা হচ্ছে। আর খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তা অধিকার ক্ষুন্ন হলে নিরাপদ খাদ্য আইন, মোবাইল কোর্ট আইনসহ অনেকগুলি আইনে প্রতিকার পাবার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে ৩৩৩ হটলাইনেও ফোন কলেও প্রতিকার চাইতে পারেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.